জাতীয় স্বার্থে পোল্ট্রি শিল্পের জন্য আলাদা কমিশন দরকার এখনি

বড় দুঃসময় পার করছি আমরা যারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার মালিক, ফিডমিল মালিক, হ্যাচারী মালিক, মেডিসিন কোম্পানি মালিক, কেমিষ্ট,  পরিবেশকসহ  এবং এই শিল্পেরসাথে জড়িত লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ। ৯০ এর দশক থেকে তীল তীল করে গড়ে উঠা প্রাণিসম্পদের এ বৃহৎ শিল্পটি আজ বড় অসহায়। যাদের কাছে আমরা আশা করি কিছু একটা করার তাদের নিরব ভূমিকা এ সমস্যা কে আরও প্রকট করে তুলেছে।

আর এ সমস্যাটা বানিজ্যক লেয়ার এর ক্ষেত্রে বেশি বেশি প্রযোজ্য। দেশের চাহিদা খতিয়ে না দেখে এবং মাথা পিঁছু গড় ডিম খাওয়ার জটিল সব হিসাব নিকাশ মাথায় নিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে লেয়ার প্যারেন্ট আমদানিতে হুমড়ী খেয়ে পড়ার ফল হলো আজকের এই করুণ দশা। একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চার দাম উঠা নামার কারনও এই অপরিকল্পিত ভাবে লেয়ার প্যারেন্ট আমদানি। এখানে আমি আমার ২০১২ সালের জুলাই মাসে ‘ভেটসবিডি’তে প্রকাশিত তথ্যটি তুলে ধরছি-

(অপরিকল্পিত ভাবে প্যারেন্ট স্টক আমদানি করাই হলো একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চা  ডিমের মূল্য উঠানামা করার মূল কারনঃ প্রকাশকাল-৬ জুলাই,২০১২)

সংবাদ লিংক (Here)

সাল       লেয়ার প্যারেন্ট
২০০৬  –  ৩,৩০,০০০
২০০৭   -৩,৫০,০০০
২০০৮   – ২,৭৬,০০০
২০০৯  –  ৪,৩০,০০০
২০১০  –  ৪,৭৫,০০০
২০১১   – ৩,৫০,০০০

এই টেবিলের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ২০০৬ সালে ৩,৩০,০০০ প্যারেন্ট আমদানি হয়েছিল।  ২০০৭ সালে মার্চে এভিয়ান  ইনফ্লুয়েঞ্জা  সংক্রমিত হলেও প্রায় ৩,৫০,০০০ প্যারেন্ট আমদানি করা হয়। ২০০৬, ২০০৭ সালে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কারনে ডিম ও বাচ্চার মূল্য অত্যধিক  কমে  যাওয়ায় ২০০৮ সালে হ্যাচারী মালিকরা ভয়ে ভয়ে মাত্র ২,৭৬,০০০ প্যারেন্ট আমদানি করেছিলেন। এর মাঝে আবার এভিয়ান  ইনফ্লুয়েঞ্জার কারনে  অনেক হ্যাচারী বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে লেয়ার বাচ্চা কম পাওয়ায় চাহিদার তুলনায় ডিমের উৎপাদনও কমে যায়। ২০০৮ সালের প্যারেন্টের এই ঘাটতির কারনেই ২০০৯ ও ২০১০ সালে ডিমের দাম কিছুটা ভাল থাকে। তাই খামারীরা আবার লেয়ার বাচ্চা উঠানো শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় লেয়ার বাচ্চার সরবরাহ কমে যাওয়ার কারনে বাচ্চার দামও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।ঐ সময়ে সরকার না বুঝেই একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চার দাম ৩২ টাকা নির্ধারন করলেও তা কার্য্যকর হয়নি। কারন বাজারে সরবরাহ কম থাকলে নিয়মনীতি দিয়ে কোন কাজ হয় না। এই দাম বাড়ার প্রবনতা দেখে  পূরুনো  হ্যাচারী গুলো ছাড়াও বেশ কিছু নতুন হ্যাচারীর উদ্ভব হলো ।

আর যার পর নাই প্যারেন্ট আমদানি শুরু করে দিল। লক্ষ্য করুন ২০০৯ সালে আমদানিকৃত প্যারেন্টের সংখ্যা পূর্ববর্তি বছরের তুলনায় প্রায় ৫৬% বেশী এবং ২০১০ সালে তা আরও প্রায় ১১% বেড়ে দাড়ালো ৪,৭৫,০০০ এ।  অপরদিকে এই দুই বছরে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার  কারনে মুরগির খুব  একটা  সমস্যাও হয়নি। যার কারনে বর্ধিত এই প্যারেন্টস্টক হইতে উৎপাদিত একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চা ও ডিমের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশী হয়ে গেল। আর তাই ২০১১ সাল সারা বছর ব্যাপি লেয়ার বাচ্চার দাম ১০-১৫ টাকায় এবং ডিমের দামও প্রতিটা ৪.৫০ টাকায় নেমে এল।এই সময়ে সরকারের নির্ধারিত ৩২ টাকায় কেউ বাচ্চা বিক্রয় করতে পারেনি। তাই ২০০৯-১০ এ  যারা নতুন ভাবে হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করেছিল তারা ব্যাপক হারে লোকসান গুনতে শুরু করলো। এই কারনে ২০১১ সালে প্যারেন্ট আমদানি কমে গিয়ে আবার ৩,৫০,০০০ এ দাড়াল। এই যখন অবস্থা, তখন ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে  এভিয়ান  ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদূর্ভাব ব্যাপকভাবে দেখা দিল এবং তা ২০১২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলো। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কারনে ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে ২০১২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪৭% বানিজ্যক খামার ও ৫৯% লেয়ার ব্রীডার ফার্ম বন্ধ হয়ে গেল।  একদিকে প্যারেন্ট কম আনা হলো  অন্য দিকে  এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কারনে অনেক প্যারেন্ট শেষ হয়ে গেল। আবার ২০১১ সালের শেষের দিকে কিছু বড় বড় হ্যাচারী প্যারেন্ট আমদানির আবেদন করলেও মন্ত্রনালয় থেকে দেরিতে অনুমতি প্রদান করায় সমস্যা আরও বেড়ে গেল। ফলাফল যা হবার তাই হলো, বর্তমানে একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চার দাম  যেমন আকাশচুম্বি,তেমনি ডিমের দামও অনেক বেশী। তাই এই প্যারেন্টের প্রয়োজনের তুলনায় কম বেশী হওয়ার কারনেই আজকে বাচ্চা ও ডিমের দাম কম বেশী হচ্ছে। আমদানি করেও স্থিতিশিল রাখা যাচ্ছে না।

এবার আসি কি পরিমান লেয়ারপ্যারেন্ট আমদানি হওয়া দরকার। আমাদের দেশে মোটামুটি ৪,০০,০০০ প্যারেন্ট প্রতিবছর নিয়মিত আমদানির ব্যবস্থা করতে পারলে এই সংকট তৈরী হবে না। প্রতি বছর ১০% করে বৃদ্ধি করে প্যারেন্ট আমদানির  ব্যবস্থা নিলে আগামী দিনে তা ভোক্তা  ও উৎপাদন কারী  সকলের  জন্য মঙ্গলজনক হবে।  আমাদের প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয় যেহেতু আমদানির  অনুমোদন দিয়ে থাকে, তাই তারাই এর  প্রকৃত সংখ্যা  নিরুপন করে ব্রীডার  ফার্মমালিকদের উৎসাহিত করবেন যাতে করে প্রতিবছর যেন প্রয়োজন অনুসারে প্যারেন্ট আমদানি করা হয়। তাহলে বাচ্চার উৎপাদন সারাবছর ব্যাপি প্রায় একই ও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে এবং ডিমের মূল্য সঠিক থাকবে। সবাই লাভবান হবেন। সরকারও সমালোচিত হবে না। এই বিষয়টি যদি সরকার সঠিকভাবে করতে পারে,তাহলে ডিম ও বাচ্চার দাম বছরের পর বছর একই হারে থাকবে। যদি কোন কারনে হ্যাচারী মালিকরা আমদানিতে অনিহা প্রকাশ করে তবে সরকার নিজেই আমদানি করে বাচ্চার বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারে। তবে ২০১২ সালে ইতিমধ্যে প্রায় ২,০০,০০০ প্যারেন্ট আমদানি করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। আশা করি সরকার ও হ্যাচারী মালিকরা এই বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখবেন এবং আগামি ২০১৩ সালের শেষের দিকে আবার খামারীরা যেন ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।)

উপরের লেখাটা আমি লিখেছিলাম ২০১২ সালে।

২০১৩-১৪ সালে মুটামুটি ডিমের বাজার ভাল ছিল। ১৫-১৬ তে খাদ্যের দাম কিছুটা কমার কারনে মার্কেট স্থিতিশীল ছিল। ফলে এই সময়ে ডিম উৎপাদনে অনেক বড় বড় উদ্যোক্তার জন্ম হলো এবং একই সাথে যারা বড় ছিল তারা তাদের বানিজ্যক ডিম উৎপাদন আরও বাড়িয়ে দিল। এই সময়ে পুরুনো খামার চালু সহ নতুন নতুন আরও বহু খামার গড়ে উঠল। স্বাভাবিক কারনেই লেয়ার বাচ্চার ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত চাহিদা বেড়ে গেল, দাম ১০০-১২০ টাকা হয়ে গেল, একটা সময় বাচ্চা পাওয়াই যাচ্ছিল না এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো । ফলে আবারও ছোট বড় হ্যাচারী গড়ে উঠল, প্যারেন্ট আমদানি শুরু হলো। এই লেয়ার প্যারেন্ট আমদানি ২০১৫ সাল থেকেই ধারাবাহিক ভাবে প্রতি বছর বেড়েছে এবং ডিমের দামও তুলনামুলক ভাল থাকাতে উদ্যোক্তাগন দেশের প্রকৃত ডিমের চাহিদার কথাই ভুলে গেলেন। এর মাঝে আবার রপ্তানি করার আশ্বাস পাওয়ায় দেশি বিদেশী বিনিয়োগ বাড়তে লাগলো।

কিন্তু একটা বিষয় আমাদের মাথায় কখনও আসলো না আসলে আমাদের দেশে মোট কত ডিম দরকার আর এর জন্য কত লেয়ার প্যারেন্ট দরকার। আর এই চিন্তাটা কখনও প্রান্তিক খামারীরা করবে না। এটা করতে হবে যারা নীতি নির্ধারনীতে আছেন তাদের। এখানে উল্লেখ করতে পারি, আজ থেকে ৩-৪ বছর আগেও জানি মাথা পিছু ডিম ৫৫-৬০ টি, তখন প্যারেন্ট ছিল প্রায় ৫ লক্ষ, তাহলে এই ডিম গ্রহনের পরিমান যদি ১০৪ টিতে যায় অর্থাৎ উন্নত দেশের মতো হয়(যদিও আমরা নিম্ন মধ্যবিত্য) তবুও ৯ লক্ষের বেশি লেয়ার প্যারেন্ট দরকার নাই। এর বেশি প্যারেন্ট আসলে উৎপাদিত ডিম দেশের বাইরে রপ্তানি করতে হবে। প্রকৃ্ত পক্ষে দেশে এখন সর্বোচ্চ চাহিদার চেয়েও উৎপাদন বেশি। তারই একটা বাস্তব হিসাব নিকাশ তুলে ধরছি।

এবার আসি আসলে আমাদের কি পরিমান ডিম দরকার এবং সেই অনুযায়ী লেয়ার ও লেয়ার প্যারেন্ট কত হওয়া উচিৎ।

আমাদের দেশের একজন মানুষ যদি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা হিসাব অনুযায়ী সপ্তাহে ২ টি করে অর্থাৎ বছরে ১০৪ টি করে ডিম খায় তাহলে সপ্তাহে মোট ডিমের প্রয়োজন ৩২ কোটি (জনসংখ্যা ১৬ কোটি ধরে)। এই ৩২ কোটি ডিম উৎপাদন করতে প্রতিদিন ডিম উৎপাদন দরকার ৪ কোটি ৫৭ লক্ষ। এই পরিমান ডিম উৎপাদন করতে লেয়ার মুরগি দরকার ৫ কোটি ৭১ লক্ষ ২৫ হাজার (গড় উৎপাদন ৮০% ধরে)।  এই ৫ কোটি ৭১ লক্ষ ২৫ হাজার  মুরগি  সারা বছর ব্যাপি ডিম পাড়া অবস্থায় রাখতে হলে বছরে মোট একদিন বয়সি লেয়ার বাচ্চা দরকার ৮ কোটি ৫৬ লক্ষ ৮৮ হাজার (এর মধ্যে ২ কোটি ৮৬ লক্ষ লেয়ার পুলেট অবস্থায় থাকবে)। এই ৮ কোটি ৫৬ লক্ষ ৮৮ হাজার লেয়ার বাচ্চা উৎপাদন করতে আমদানিকৃ্ত বছরে লেয়ার প্যারেন্ট বাচ্চা দরকার ১০ লক্ষ ২৮ হাজার যার মধ্যে ৬ লক্ষ ৮৬ হাজার  উৎপাদনে থাকবে (১২৫ টি লেয়ার বাচ্চা/প্যারেন্ট)।

তাহলে কি দাঁড়ালো- যদি আমরা প্রত্যেকে বছরে ১০৪ টি করে ডিম খাই (যদিও সরকারী হিসাবে ৯০-৯৫ আর বেসরকারী হিসাবে ৬৫-৭০ টি ডিম) তাহলে  আমাদের দেশে ১ দিন বয়সী লেয়ার প্যারেন্ট দরকার ১০ লক্ষ ২৮ হাজার। আর অন্যান্য ডিম যদি ১০% ধরি তাহলে সর্বোচ্চ প্যারেন্ট দরকার ৯  লক্ষ ২৫  হাজার। আমার জানামতে ২০১৭ সালে দেশে লেয়ার প্যারেন্ট আসছে প্রায় ১২ লক্ষাধিক এবং লেয়ারের জিপিও এসেছে।এই জিপি থেকেও আরও লেয়ার প্যারেন্ট আমদানিকৃ্ত প্যারেন্টের সাথে যোগ হয়েছে। তাহলে আজকে আমরা যারা ডিমের প্রকৃ্ত চাহিদা, উৎপাদন ও ডিম খাওয়ার পরিমান এবং এর বহুমুখি ব্যবহার  নিরূপন না করে ধুম ধারাক্কা লেয়ার প্যারেন্ট আমদানি করছি, যারা সব সময় ব্রয়লার প্যারেন্ট করতাম  তারাও কিছু কিছু লেয়ার  প্যারেন্ট  আমদানি শুরু করলাম – এখন কি হবে?

যারা বড় তাদের গত ২ বছরে যা আয় হয়েছে তাতে ২০১৮ সাল পুরাটা দাম না পেলেও চলবে। কিন্তু যারা বেশি দামের আশায় কোন রকম হিসাব নিকাশ ছাড়াই প্যারেন্ট আনলাম, খামার করলাম, ফিডমিল দিলাম, হ্যাচারী করলাম, মেডিসিন কোম্পানি দিলাম, তাদের এই লোকশান কি কখনো পূরণ হবে? তারা কি আবার ঘুরে দাড়াতে পারবে? সুন্দর সোনালী স্বপ্নে বিভোর হয়ে ডিমে আমরা স্বয়ং সম্পূর্ন হবো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করবো- কিন্তু  একই  হাল? একই চিত্র?

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ও কিছু করার নাই। কারন তাদের আমদানি নিয়ন্ত্রন করার কোন আইন নাই। বড়দের ছাড় দিতেই হয় কারন তারা বড়,এ শিল্পের যত উন্নয়ন তারাই করে যাচ্ছে !  আর ছোটদের তো আমদানিতে উৎসাহিত করতেই হয় কারন এ শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। সরকারের একটি বাড়ী  একটি  খামার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমার এতো গুলো কথা কারো পড়ার সময় হয়তো হবে না, তবুও বলছি-আজকে সময় এসেছে এ  শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে  মিলে সরকারী, বেসরকারী, ছোট বড়  সকল সংস্থা একীভুত হয়ে একটি শক্তিশালী  কমিটি গঠন করতে হবে। যে কমিটি  দেশের লক্ষ লক্ষ  ক্ষুদ্র  উদ্যোক্তাদের  বাঁচাতে,ডিম, মাংস, দুধের প্রকৃ্ত চাহিদা নিরূপন করে সেই অনুযায়ী ব্রয়লার জিপি, ব্রয়লার ও লেয়ার প্যারেন্ট, উন্নত জাতের গরু আমদানি  করার অনুমোদন দিতে হবে। উৎপাদিত ডিম, মাংস, দুধের দাম নির্ধারন করে দিতে  হবে যাতে উৎপাদনকারী ও ভোক্তা  উভয়েই লাভবান হয়।  আর  যারা বড় আকারে করবেন তাদের অবশ্যই বিদেশে রপ্তানি করার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং সেই ভাবেই তাকে উৎপাদন করতে হবে যাতে বিদেশে রপ্তানি করতে কোন সমস্যা না হয়। মনে রাখতে হবে আমরা এখনও উন্নত জাতিতে পরিনত হতে পারিনি, আমাদের অর্থনীতি  এখনও কৃ্ষি ও প্রাণিসম্পদ  নির্ভর।দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ এখনও গ্রামীন কৃ্ষি, পোল্ট্রি ও গবাধি প্রাণির উপর নির্ভরশীল। দেশের লক্ষ লক্ষ নারী-পূরুষ,

যুব সমাজ কে বেকারত্বের হাত থেকে বাঁচাতে সরকারের এবং সেক্টরের বিভিন্ন সংস্থা কে এক যুগে কাজ করার সময় এসেছে। আর এটা না করতে পারলে মাঝারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শেষ হয়ে যাবে এবং সেই সাথে সাথে এদের সাথে জড়িত লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। আর তখন বড় বড় ও বহুজাতিক কোম্পানীগুলো নিজেদের ইচ্ছে মতো বাংলাদেশের মার্কেট নিয়ন্ত্রন করবে। আমার এই লেখা আমার একান্ত মতামতের প্রতিফলন এবং ১৫ বছর ধরে সেক্টরে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। এতে  কেউ কোন প্রকার কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি। আমি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়ে আকুল আবেদন-এর একটা সুন্দর সমাধান চাই। ধন্যবাদ।

ডাঃ মোহাম্মদ সরোয়ার জাহান
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
সেইফ বায়ো প্রোডাক্টস্ লিঃ
+৮৮০-১৯০৪-৪৮৮৬০০

আসুন ভেট মোরশেদকে বাঁচাতে এগিয়ে আসি

চট্রগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডাঃ মোঃ মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী বিগত এক বছর যাবৎ দূরারোগ্য ক্রোনস্ ডিজিসে (Crohn’s Disease) ভুগছেন। ক্রমান্নয়ে তার শরীরের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। উল্লেখ্য বাংলাদেশ ও ভারতে চিকিৎসার পরও কোন সুফল পাননি এই তরুণ ভেটেরিনারিয়ান। ডাঃ মোরশেদের বর্তমান চিকিৎসক থাইল্যান্ডে রোগটির সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে বলে জানিয়েছেন। থাইল্যান্ডে গিয়ে উন্নত চিচিৎসা নিতে প্রয়োজন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। কিন্তু ডাঃ মোরশেদ তার তাঁর পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমান অর্থ সংস্থান করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় ডাঃ মোরশেদ ও তাঁর পরিবার দেশের মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন।

চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ডাঃ মোরশেদের মত একজন তরুণ এবং সম্ভাবনাময়ী ভেটেরিনারিয়ানকে হারানো আমাদের জন্য হবে অত্যন্ত কষ্টের এবং দেশের জন্য হবে অপূরণীয় ক্ষতি। ইতোমধ্যে সিভাসুর প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠন সিভাসু এলামনাই এসোসিয়েশন ডাঃ মোরশেদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছে।

আসুন ডাঃ মোরশেদ বাঁচাতে আমরাও আমাদের সাহায্যের হাতকে প্রসারিত করি।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ

CVASU Alumni Association
A/C No. 0100095316136
Swift Code: JANBBDDHLDE
Bank Address: Janata Bank Limited, Chittagong Veterinary and Animal Sciences University Branch, Khulshi, Chittagong-4225
Bkash: 01675 6574039, 01675 6574039

Executive Committee of BDvetNET

A new executive committee for BDvetNET has been formed in an EC-meeting held on March 25, 2018 at the Department of Microbiology and Hygiene, Bangladesh Agricultural University, Mymensingh-2202. The meeting was presided over by the acting president of the Network for the Veterinarians of Bangladesh Professor Dr. Md. Masudur Rahman.

The newly formed committee is given below:

The newly formed committee can be accessed by CLICKING HERE.

Best Oral and Poster Presentation Awardees at BSVER ASCon XXIV

In the BSVER ASCon XXIV 2018, two oral presenters and one poster presenter have been awarded “BSVER Young Scientist Best Presentation Award 2018” and “Best Poster Award” respectively.

Dr. Md. Golzar Hossain, Assistant Professor, Department of Microbiology and Hygiene, Bangladesh Agricultural University, as one of the Best Oral Presentation Awards, presented on the topic entitled- Functional significance of promyelocytic leukemia protein (PML) on Kaposi’s sarcoma associated Herpesvirus lytic replication. The other oral presentation awardee Nurjahan Yasmin Runa, an MS student at Sylhet Agricultural University presented on the topic entitled- Effect of dietary supplementation of bacteriophage in broiler chicken for growth performance, blood characteristics and colonization of Salmonella and E. coli.

On the other hand, Anita Rani Dey, a PhD student at the Department of Parasitology, Bangladesh Agricultural University, has been awarded “Best Poster Presentation Award 2018”. She presented her poster on the topic entitled- Multiple anthelmintic resistance in gastrointestinal nematodes of sheep and goats in Bangladesh.

Congratulations to the winners this year!!

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (বিএসভিইআর) এর নববির্বাচিত কার্যকরী কমিটি

বিএসভিইআর আয়োজিত দু’দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের সমাপনি অনুষ্ঠানে আজ সোসাইটির পরবর্তী দুই বছরের জন্য কার্যকরী কমিটি নির্বাচিত হয়েছেন। কমিটি নিম্নরুপঃ

সভাপতিঃ প্রফেসর ড. এএস মাহফুজুল বারী, প্যাথলজি বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

সহ-সভাপতিঃ প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগ, বাকৃবি।

কোষাধ্যক্ষঃ প্রফেসর ড. মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, মেডিসিন বিভাগ, বাকৃবি।

সাধারণ সম্পাদকঃ প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল আলীম, প্যারাসাইটোলজি বিভাগ, বাকৃবি।

যুগ্ম-সম্পাদকঃ  ড. কেএম মোজাফ্ফর হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

সদস্যঃ (জেষ্ঠক্রম নয়)

ড. আলমগীর হোসেন, চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম।

ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, ফার্মাকোলজি বিভাগ, বাকৃবি।

ড. জাহাঙ্গীর আলম, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি, সাভার, ঢাকা।

ড. মনিরা নুর, প্যাথলজি বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

ড. মোঃ মাহমুদুল আলম, সার্জারী ও অবস্ট্রেট্রিক্স বিভাগ, বাকৃবি।

ড. বেগম ফাতেমতুজ্জোহরা, হাজী দানেশ মোহাম্মদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।

ড. মোঃ নুরুল আমিন, এসিআই।

ড. সুলতান আহমেদ, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

ড. এমদাদুল হক চৌধুরি, প্যাথলজি বিভাগ, বাকৃবি।

Fifteenth International Scientific Conference (ISCon XV) at CVASU

Fifteenth International Scientific Conference (ISCon XV) of Chittagong Veterinary and Animal Sciences University (CVASU) will take place at Chittagong on 12-13 May, 2018. The theme of the conference is “Role of Livestock and Fisheries Towards a Sustainable Food System for a Middle Income Country like Bangladesh”.  The relevant professionals and scientists are encouraged to submit their research article(s) as per the time frame given below.

United Nations (UN) has recently declared Bangladesh a middle income country as country’s per capita income reached to US$1,610 alongside 7.28% increase in the growth rate. It’s obligatory to identify the challenges in livestock and fisheries sectors and also to define the strategies for the development of a sustainable food system in Bangladesh. The conference will also highlight various opportunities of Fisheries sector towards development of a sustainable food system. Experts from the relevant multidisciplinary fields will discuss the framework development, implementation and its scopes for the welfare of the people of Bangladesh.

Abstract submission deadline: 05 April 2018

Registration: 26 April 2018

Abstract (within 400 words) should be submitted to-  abstract@cvasu.ac.bd

চব্বিশতম বিএসভিইআর বার্ষিক সম্মেলন শুরু

আজ ২৪ মার্চ ২০১৮ রোজ শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো দু’দিনব্যাপি সম্মেলন। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (বিএসভিইআর) কর্তৃক আয়োজিত এ সম্মেলন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে সকাল আটটায় শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ আলি আকবর, মাননীয় উপাচার্য, বাকৃবি। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি’র সাবেক উপাচার্য ও এমিরেটাস প্রফেসর, প্রফেসর ড. এম.এ. সাত্তার মন্ডল। প্রফেসর ড. মোঃ জসিমউদ্দিন খান, প্রো-ভিসি, বাকৃবি, প্রফেসর ড. প্রিয় মোহন দাস, ডিন, ভেটেরিনারি অনুষদ, বাকৃবি, ও জনাব সামসুল আরেফিন খালেদ, প্রেসিডেন্ট, ওয়াপসা-বিবি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেণ প্রফেসর ড. মোঃ শহিদুর রহমান খান, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট, বিএসভিইআর।  কনফারেন্সে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর সিম্পোজিয়াজ অনুষ্ঠিত হবে যা যথাক্রমে- Antimicrobial resistance ও Prioritizing Zoonotic Diseases: One-Health Approach in Bangladesh।

দু’দিন ব্যাপী এ সম্মেলনে মোট ১১৫ টি সায়েন্টিফিক পেপার উপস্থাপিত হবে। বাংলাদেশেসহ বিভিন্ন দেশের পাচশতাধিক বিজ্ঞানী এ সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন।

আহকাব আয়োজিত ৪র্থ ডেইরী, একোয়া এবং পেট মেলা

আহকাব আয়োজিত ৪র্থ ডেইরী, একোয়া এবং পেট মেলার শুভ উদ্বোধন এনিম্যাল হেলথ এসোসিয়েশন কোম্পানি বাংলাদেশ (আহকাব) আয়োজিত চতুর্থ ডেইরী, একোয়া এবং পেট প্রদর্শনী ও মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ মেলার উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব নারায়ন চন্দ্র চন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন আহকাবের মহাসচিব জনাব ড. মোঃ কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে ডেইরীর উপর পেপার প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন অধ্যপক ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ এবং মৎস এর উপর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মোঃ মাহফুজুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহকাবের সভাপতি এ কে এম আলমগীর। প্রধান অতিধির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জনাব নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সরকার অভাবনীয় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী জানান, আমরা মৎস্য ও প্রাণীখাতের উন্নয়নে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিনি সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, প্রতি দুই বছর পর আহকাব এ মেলার আয়োজন করে থাকে। এবারের মেলা চলবে ৮, ৯ ও ১০ মার্চ তিনদিনব্যাপী। মেলায় দেশী-বিদেশী প্রায় দেড় শতাধিক কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। এছাড়াও মেলায় প্রায় ৬১ টি সায়েন্টিফিক পেপার প্রেজেন্টেশন করা হবে।