সুস্থ্য, মেধাবী ও উন্নত জাতি গঠনে ভেটেরিনারিয়ান

বাংলাদেশ এক সময় ক্ষুধা ও দারিদ্রের দেশ ছিল। পৃথিবীর উন্নত দেশের মানুষ ভাবতো এতো ছোট একটা দেশ আর এতো এতো মানুষকে কিভাবে খাওয়াবে? স্বাধীনতার পর শুরু হলো আমাদের কৃ্ষিবিদ বিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষনা কি করে অল্প জমিতে অধিক ফলনশীল ধানের জাত রোপন করা যায়? অধিক ফসল ফলানো যায়। সফল হলেন। ভাতের অভাব দুর হয়েছে অনেক আগেই । তারপর ভাবনায় এলো শুধু ভাত খেয়ে তো আর উন্নত মেধা সম্পন্ন জাতি গঠন সম্ভব নয়। দরকার আদর্শ খাবার। আদর্শ খাবার কি? দুধ, ডিম, মাছ, মাংস। আমরা ছোট কালে দেখেছি মানুষ শুধু পেটে খেয়ে সারাদিন কাজ করে দিতো। এর পর সারাদিন কাজ করে ১ কেজি চাল কেনার টাকা হতো। সেটা দিয়ে তার পরিবারের খাদ্যের যোগান হতো ঠিকই কিন্তু দুধ, ডিম, মাংস মাসে একবারও চোখে পড়তো না। ফলে শিশুদের চেহারা এমন- কারও পেট বড়, কারও চোখ গর্তে, বেটে, মাথা বড়, পা চিকন, বিকলাঙ্গ, অন্ধ, কানা, খোঁড়া ইত্যাদি রকমের। আর মার্তৃ মৃত্যু, শিশু মৃত্যুহার ছিল নিয়মিত। তাই প্রয়োজন হলো উন্নত খাদ্যের। এখন উন্নত খাদ্য কি? উন্নত খাদ্য নিশ্চয় ভাত/রুটি নয়। উন্নত খাদ্য হলো আমিষ। আমিষ ছাড়া কোন প্রাণির সৃষ্টি সম্ভব নয় বেঁচে থাকা তো দূরের কথা। এই আমিষের প্রধান উৎস হলো প্রাণি। হ্যা উদ্ভিদ উৎসও আছে কিন্তু সারা পৃথিবী জুড়েই আমিষের প্রধান উৎস হলো প্রাণি ও মৎস্য। মৎস্যও এক ধরনের প্রাণি। পাখীও একধরনের প্রাণি এবং মুরগিও প্রাণি। সুতরাং প্রাণিজ আমিষের প্রয়োজন মিটাতে শুরু হলো মাছ চাষ, গরু ছাগল পালন, মুরগি পালন। আজকে আমরা দুধ বাদ দিলে সব কিছুতেই উৎপাদনে লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে বলে আমি মনে করি। দুধেও আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবো আশা করি। এর পেছনের সবচেয়ে যাদের বেশি অবদান তারা হলেন ভেটেরিনারিয়ান। আজকে আমাদের শিশু ও মায়েদের দিকে তাকালেই আমরা বুঝতে পারি বাঙালী জাতি আজকে উন্নত দেশে প্রবেশের অপেক্ষায়।

আমাদের ভাতের প্রয়োজন ছিল, ভাতের ব্যবস্থা হয়েছে। আমাদের আমিষের প্রয়োজন ছিল, আমিষের ব্যবস্থা হয়েছে। এখন আমাদের সময় এসেছে নিরাপদ খাদ্য তৈরীর। কেন এই নিরাপদ খাদ্য? তাহলে কি আমরা এতো দিন নিরাপদ খাদ্য তৈরী করিনি? করেছি কিন্তু উন্নত বিশ্বের মতো নয়। আজকে আমাদের নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে উন্নত দেশের মতো বিদেশে প্রাণিজ আমিষ রপ্তানি করতে চাই।

এখানে বলে রাখা ভাল যে, একটা দেশ যখন গরিব থাকে, তখন সরকার তার আইন কানুন যথাযথ প্রয়োগ না করে একটু শিথিল করে দেয় যাতে করে সবাই কাজে লেগে যায় এই সেক্টরের উন্নয়নে। এই সু্যোগ নিয়েই আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশে পা বাড়িয়েছি। তার মানে এই না যে সরকার উদাসিন। তার মানে এই না ভেটেরিনারিয়ানরা উদাসিন।

এখন নিরাপদ খাদ্যের কথায় আসি। নিরাপদ খাদ্য বলতে মানুষের জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় যে খাদ্য তা নিরাপদ রাখা। আর এটাই এই সময়ে সারা বিশ্বব্যাপী গন মানুষের দাবি। কেন এখন এই নিরাপদ খাদ্য দরকার?

মানুষ সহ সকল প্রাণির দেহে যতো প্রকার রোগ বালাই আছে তার প্রায় ৮০% দেহে প্রবেশ করে খাদ্যের মাধ্যমে। কাজেই এই খাদ্য যদি নিরাপদ না থাকে তাহলে সারা দুনিয়ার চিকিৎসক একত্রিত করে চিকিৎসা দিলেও কোন কাজ হবে না। সাময়িক সুস্থ্য হয়ে আবার অসুস্থ্য হয়ে পড়তে হবে।
এই খাদ্য নিরাপদ বলতে এখন আর ভাত নিরাপদ বুঝায় না। কারন মানুষ এখন ভাত খুব কমই খায়। মানুষ এখন খাদ্য তালিকায় দুধ,ডিম, মাছ, মাংস ও সব্জীকেই প্রাধান্য দেয়। আর শিশুদের তো দুধ,ডিম,মাংস ছাড়া একদিনও চলে না। রুগীর খাদ্য তালিকায় এই গুলিই ঘুরে ফিরে থাকে। তাহলে আমাদের কোন জায়গাটাতে সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া উচিত? নিরাপদ প্রাণিসম্পদ গড়ে তোলার প্রতিই নজর দেয়া উচিত।

এখন এই নিরাপদ প্রাণিসম্পদ গড়ে কে তুলবে? ব্যবসায়ীরা নাকি সরকার? আপনাদের কার কি উত্তর আমার জানা নাই, তবে আমার মতে এটা সরকারের উপরেই বেশি দায়িত্ব। ব্যবসায়ীরা তাদের মুনাফার দিকটা প্রাধান্য দিয়েই কিন্তু তাদের পলিসি ঠিক করবে, এটা তাদের দোষ না, গুণ বলাই যুক্তি যুক্ত। সরকার এখানে দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে কোনটা ভাল সেটাই ঠিক করে দেবে। এই ব্যপারে সরকার বিভিন্ন সংস্থা, বৈজ্ঞানিক, ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময় করে সঠিক কার্য্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

আমি এতক্ষন ধরে যা বলেছি তা বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষেরই কম বেশি জানা। যে বিষয়টা সাধারন মানুষ এবং সরকারের নীতি নির্ধারকরা খুব কমই জানেন কিংবা বুঝতে চান না কিংবা এড়িয়ে চলেন তা হলো প্রাণি স্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাব। আমরা যদি স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অন্যান্য অধিদপ্তরের দিকে তাকাই তাদের জনবল ৪/৫ গুণ বেড়েছে আর যে মন্ত্রনালয় ছাড়া দেশের ১৭ কোটি মানুষের জীবন মান, মেধা, স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সম্ভব হয়নি সেই মন্ত্রনালয়ের অধিদপ্তরগুলোতে জনবল তো বাড়েইনি বরং কমেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কথা যদি বলি প্রতিটা ইউনিয়নে একজন করে এমবিবিএস দিয়েছেন যদিও তারা সেখানে থাকেন না। প্রতিটি উপজেলায় হাসপাতাল, ক্লিনিক সহ এমবিবিএস এ ভরপুর। আমি এমবিবিএসদের কখনও ছোট করে কথা বলছি না, এটা দরকার আছে। এর চেয়েও বেশী দরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ভেটিরিনারিয়ান। আমাদের দূ্র্ভাগ্য একজন করে ভেটেরিনারিয়ান নিয়ে একটা উপজেলা চলছে। আজকে আমরা যদি মানব সম্পদ নিরাপদ রাখতে চাই, আমরা যদি আমাদের প্রানিজ আমিষের উৎস প্রাণিসমূহ নিরাপদ রাখতে চাই, আমরা যদি আমাদের উৎপাদিত আমিষ বিদেশে রপ্তানি করতে চাই, আমরা যদি মানব স্বাস্থ্যের পেছনে খরচকৃ্ত হাজার হাজার কোটি টাকা রক্ষা করতে চাই, আমরা যদি বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে চাই তাহলে প্রাণিসম্পদের দক্ষ জনবল বাড়ানোর কোন বিকল্প নাই,বিকল্প না,বিকল্প নাই।

আর একজন ভেটেরিনারি সার্জন দিয়ে একটি উপজেলার লক্ষ লক্ষ প্রাণির স্বাস্থ্য দেখভাল করা সম্ভব নয়। আর প্রাণি মানে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, পাখী, ভেড়া, মহিষ, বন্য প্রাণি এরা কখনও ভেটেরিনারিয়ানের কাছে এসে স্বাস্থ্য সেবা নেয় না, ভেটেরিনারিয়ানদেরকেই প্রাণির কাছে যেতে হয়, তাহলে অনুমান করুন একজন ভেটেরিনারিয়ান যদি উপজেলার এক প্রান্তে একটা উন্নত গাভীর বাচ্চা প্রসবের জন্য চলে যায়, তখন উপজেলার অন্য এলাকার প্রাণির সমস্যা কে দেখবে। ডাক্তার আসার আগেই প্রাণিটি পটল তুলতে বাধ্য। এই ভাবে আমাদের প্রাণিসম্পদ ২ দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

আমরা যারা প্রতিদিন দুধ, ডিম, মাংস খাই তারা কি কখনও একবার ভেবে দেখেছি এটা যারা উৎপাদন করেন, যারা এর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরলস দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন, তারা কি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন? ভাবিতো নাইই, উলটো ভাবি গরু, ছাগল, মুরগি পালতে আবার ডাক্তার লাগে নাকি? মজার বিষয় আমাদের বন্ধুবর মানুষের ডাক্তার যারা আছেন তারাও বলে থাকেন এসব পালতে আবার ডাক্তার লাগে? আমরা যখন বিভিন্ন উন্নত দেশের কথা বলতাম তখন তারা হেসে উড়িয়ে দিতো।

আজকে শুনি, তারা বলতে শুরু করেছেন, মানুষের রোগ বালাই আসছে প্রাণিসম্পদ থেকে, কাজেই এখন তাদের ডাক্তারীতে আর ফল আসছেনা। এখন দোষ প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের। আজকে কেন এসব বলছেন? এর আগেতো আমাদের মানুষই ভাবতেন না? মনে রাখবেন এইভাবে চলতে থাকলে মানুষ আর আপনাদের কাছে যাবে না। কারন মানুষ এখন অধিক সচেতন, তারা যাতে রোগে আক্রান্ত না হন সেই পরামর্শ চান। তারা আর ঔষধ খেয়ে বেঁচে থাকতে চান না। তারা এখন নিরাপদ খাদ্য চান। কাজেই আমাদের সকলের উচিত সবার আগে আমার খাদ্য নিরাপত্তা। আর আমরা যদি নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য নিশ্চিৎ করতে পারি তাহলে মানব স্বাস্থ্য এমনিতেই ঠিক থাকবে। পৃথিবীর সকল উন্নত দেশ বলতে তাদের প্রাণিসম্পদ উন্নত। উন্নত দেশে তাই ভেটরাই সর্বাগ্রে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, সচিব মহোদয় ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়দের অনুরোধ করছি, অবশ্যই অবশ্যই আপনাদের এই বিষয়টা প্রধান মন্ত্রীর নজরে আনতে হবে এবং তাকে ভালভাবে পরিস্কার করে বলতে হবে। তা নাহলে প্রধান মন্ত্রীই একদিন আপনাদের এইজন্য দায়ী করবেন।

আমাদের প্রাণিজ আমিষ নিরাপদ রাখতে আমার নিজস্ব কিছু মতামত তুলে ধরছি- আশা করছি বিজ্ঞজনেরা এই বিষয়টি বিশেষভাবে নজর দেবেন-
১। প্রাণিসম্পদের দক্ষ জনবল বাড়াতে প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো কোন প্রকার কাটছাট ছাড়াই বাস্তবায়ন করতে হবে।
২। আগামী ৫ বছরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।
৩। উপজেলা পর্যায়ে প্রাণি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা এখনি করতে হবে।
৪। ভেটেরিনারিয়ানদের কাজকে গতিশীল করতে পাশাপাশি প্যারাভেট নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫। শুধুমাত্র রেজিঃ ভেটেরিনারিয়ানের ব্যবস্থাপত্র অনু্যায়ী সকল প্রাণির চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬। প্রতিটি উপজেলায় প্রাণি খাদ্যের ও ঔষুধের মান নির্নয়ে সরকারী ল্যাব থাকতে হবে।
৭। ইমারজিং ডিজিজ মোকাবেলায় আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে লোকাল আইসোলেট থেকে ভ্যাকসিন উৎপাদনে বেসরকারী পর্যায়ে আধুনিক মানের ল্যাব স্থাপনে সরকারের সহায়তা করতে হবে। তা নাহলে আমদানী করা ভ্যাকসিন দিয়ে শুধু অর্থের অপচয় আর খামার ধ্বংস ছাড়া আর কোন লাভ হবে না এবং রোগ নিয়ন্ত্রনে ও নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে বাধা গ্রস্ত হবে।
৮। প্রতিটি শহর, উপশহরে যেখানে প্রাণি জবাই করা হয় সেখানে অবশ্যই একজন ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগ দিতে হবে।
৯। ঔষধ প্রশাসনে হিউম্যান হেলথ্ এর মতো ভেটেরিনারি ড্রাগ নিয়ন্ত্রন ও মনিটর এর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। আমার জানামতে ঔষধ প্রশাসনে ভেটেরিনারি ড্রাগের জন্য একটা সেল আছে কিন্তু আমাদের অধিদপ্তর এখনও সেখানে কোন ভেট নিয়োগ দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
১০। বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারীভাবে আধুনিক মানের ল্যাব থাকতে হবে যেখান থেকে সরকারী, বেসরকারী খামার মালিক ও ভেটেরিনারিয়ানরা সঠিক রোগ নির্নয়ে সেবা নিতে পারে।
১১। প্রতিটা বন্দরে অবশ্যই সরকারীভাবে ল্যাব এবং এখানে ২/৩ জন করে ভেট থাকতে হবে যাতে করে আমদানিকৃত ভেটেরিনারি ঔষুধ ও খাদ্য উপকরন পরীক্ষা করে দ্রুত পন্য ছাড় করা যায়।
১২। দেশে বিদ্যমান ডিভিএম ও পশুপালন ডিগ্রী অবলুপ্ত করে সকল সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে একই রকম কোর্স কারিকুলাম ও ডিগ্রী চালুকরন করতে হবে। যেন মাঠ পর্যায়ে কোন সমস্যা না হয়।
১৩। ভেটেরিনারি কাউন্সিলের বিদ্যমান যে জনবল রয়েছে তা আরও বাড়িয়ে বিভিসির সকল নীতিমালা প্রয়োগ করতে হবে। ৫ বছর পর পর ভেটেরিনারিয়ানদের ক্যাটাগরি করতে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা দরকার।
১৪। প্রাণিজ আমিষ নিরাপদ রাখতে প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা যেমন আহকাব, বিভিএ, ফিয়াব, বিএবি, বিপিআইএ, টিভিই সহ সকল সংস্থাকে সমন্বয় করে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে এন্টারপ্রেনারদের অংশগ্রহনের সু্যোগ রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ন একটা বোর্ড বা কমিটি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের নেতৃ্ত্বে গঠন করা যারা এই সেক্টরের উৎপাদিত পন্য চাহিদার ভিত্তিতে উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
১৫। প্রাণিসম্পদের উৎপাদিত পণ্য মৎস্য সহ যাতে বিদেশে নিরাপদে রপ্তানি করা যায় সেই ধরনের সু্যোগ সুবিধা ও বাজার তৈরীতে সরকারী সকল সহযোগীতার বিধান রাখতে হবে।
১৬। বেসরকারী সংস্থাগুলোকে প্রাণিসম্পদের উৎপাদিত পন্য ভোক্তা পর্যায়ে সরাসরি বিক্রয়ের ও তাদের কে বেশি বেশি প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সকল প্রকার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে কাজে লাগাতে হবে।

বিজ্ঞজনদের আরও মূল্যবান মতামত থাকতে পারে সেগুলিও এর সাথে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা গেলে আমরা অবশ্যই উন্নত বিশ্বের মতো মাথা উচু করে বলতে পারবো, আমরাও পারি। সকল ভেটেরিনারিয়ান এবং সেক্টরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার শুভ কামনা রইল।
সুন্দর সোনার বাংলাদেশের প্রত্যাশায়।

ডাঃ মোহাম্মদ সরোয়ার জাহান
কার্যকরি সদস্য- আহকাব
ব্যবস্থাপনা পরিচালক- সেইফ বায়ো প্রোডাক্টস্ লিঃ
+৮৮০১৭১১০৫৪৭২৮
+৮৮০১৯০৪৪৮৮৬০০

World Veterinary Day 2018 Celebration at BAU

Today (April 28, 2018, Saturday), world veterinary day 2018 has been celebrated at Bangladesh Agricultural University (BAU), Mymensingh. This year, the event with the theme “The role of veterinary profession in sustainable development to improve livelihoods, food security and safety” was jointly organized by the Faculty of Veterinary Science (FVS), BAU, and the Bangladesh Veterinary Association (BVA) – Mymensingh Division. A colorful rally was arranged that was moved around the BAU campus. The program was chaired by Prof. Dr. Prya Mohan Das, Dean, FVS, BAU. Prof. Dr. Emdadul Haque Chowdhury and Dr. Md. Nurul Islam were present as the special guests.

Dr. SD Chowdhury, Honorable Students Advisor, BAU was present in the event as the chief guest. The key note on the theme was presented by Prof. Dr. KHM Nazmul Hussain Nazir, Department of Microbiology and Hygiene, FVS, BAU. The speakers emphasized on different aspects of food security and safety issues in Bangladesh and crucial roles of veterinarians in improvement of livelihoods.

More than 350 participants including university teachers, government officials, field veterinarians and veterinary students were attended the festive event.

Registration for WVPA-BB symposium

World Veterinary Poultry Association-Bangladesh Branch is going to organize a symposium with the theme of Avian Influenza Vaccination and Surveillance. The Symposium will take place on 12 May 2018, Saturday, at Dhaka Regency Hotel, Dhaka where in addition to plenary lectures by national and international speakers, there will be poster presentation on avian influenza.

To participate in the symposium everyone requires to do registration. The WVPA-BB members are entitled to free registration, while non-member poultry Veterinarians will have to pay Tk. 1000 as registration fee.

Participants  : Around 200 online registered interested participants can be accommodated at first come first service basis

Deadline        : 06 May 2018

Registration  : To participate in the symposium everyone needs to do registration in the link below:

http://wvpa-bb.org/seminar/

জাতীয় স্বার্থে পোল্ট্রি শিল্পের জন্য আলাদা কমিশন দরকার এখনি

বড় দুঃসময় পার করছি আমরা যারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার মালিক, ফিডমিল মালিক, হ্যাচারী মালিক, মেডিসিন কোম্পানি মালিক, কেমিষ্ট,  পরিবেশকসহ  এবং এই শিল্পেরসাথে জড়িত লক্ষ লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ। ৯০ এর দশক থেকে তীল তীল করে গড়ে উঠা প্রাণিসম্পদের এ বৃহৎ শিল্পটি আজ বড় অসহায়। যাদের কাছে আমরা আশা করি কিছু একটা করার তাদের নিরব ভূমিকা এ সমস্যা কে আরও প্রকট করে তুলেছে।

আর এ সমস্যাটা বানিজ্যক লেয়ার এর ক্ষেত্রে বেশি বেশি প্রযোজ্য। দেশের চাহিদা খতিয়ে না দেখে এবং মাথা পিঁছু গড় ডিম খাওয়ার জটিল সব হিসাব নিকাশ মাথায় নিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে লেয়ার প্যারেন্ট আমদানিতে হুমড়ী খেয়ে পড়ার ফল হলো আজকের এই করুণ দশা। একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চার দাম উঠা নামার কারনও এই অপরিকল্পিত ভাবে লেয়ার প্যারেন্ট আমদানি। এখানে আমি আমার ২০১২ সালের জুলাই মাসে ‘ভেটসবিডি’তে প্রকাশিত তথ্যটি তুলে ধরছি-

(অপরিকল্পিত ভাবে প্যারেন্ট স্টক আমদানি করাই হলো একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চা  ডিমের মূল্য উঠানামা করার মূল কারনঃ প্রকাশকাল-৬ জুলাই,২০১২)

সংবাদ লিংক (Here)

সাল       লেয়ার প্যারেন্ট
২০০৬  –  ৩,৩০,০০০
২০০৭   -৩,৫০,০০০
২০০৮   – ২,৭৬,০০০
২০০৯  –  ৪,৩০,০০০
২০১০  –  ৪,৭৫,০০০
২০১১   – ৩,৫০,০০০

এই টেবিলের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ২০০৬ সালে ৩,৩০,০০০ প্যারেন্ট আমদানি হয়েছিল।  ২০০৭ সালে মার্চে এভিয়ান  ইনফ্লুয়েঞ্জা  সংক্রমিত হলেও প্রায় ৩,৫০,০০০ প্যারেন্ট আমদানি করা হয়। ২০০৬, ২০০৭ সালে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কারনে ডিম ও বাচ্চার মূল্য অত্যধিক  কমে  যাওয়ায় ২০০৮ সালে হ্যাচারী মালিকরা ভয়ে ভয়ে মাত্র ২,৭৬,০০০ প্যারেন্ট আমদানি করেছিলেন। এর মাঝে আবার এভিয়ান  ইনফ্লুয়েঞ্জার কারনে  অনেক হ্যাচারী বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে লেয়ার বাচ্চা কম পাওয়ায় চাহিদার তুলনায় ডিমের উৎপাদনও কমে যায়। ২০০৮ সালের প্যারেন্টের এই ঘাটতির কারনেই ২০০৯ ও ২০১০ সালে ডিমের দাম কিছুটা ভাল থাকে। তাই খামারীরা আবার লেয়ার বাচ্চা উঠানো শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় লেয়ার বাচ্চার সরবরাহ কমে যাওয়ার কারনে বাচ্চার দামও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।ঐ সময়ে সরকার না বুঝেই একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চার দাম ৩২ টাকা নির্ধারন করলেও তা কার্য্যকর হয়নি। কারন বাজারে সরবরাহ কম থাকলে নিয়মনীতি দিয়ে কোন কাজ হয় না। এই দাম বাড়ার প্রবনতা দেখে  পূরুনো  হ্যাচারী গুলো ছাড়াও বেশ কিছু নতুন হ্যাচারীর উদ্ভব হলো ।

আর যার পর নাই প্যারেন্ট আমদানি শুরু করে দিল। লক্ষ্য করুন ২০০৯ সালে আমদানিকৃত প্যারেন্টের সংখ্যা পূর্ববর্তি বছরের তুলনায় প্রায় ৫৬% বেশী এবং ২০১০ সালে তা আরও প্রায় ১১% বেড়ে দাড়ালো ৪,৭৫,০০০ এ।  অপরদিকে এই দুই বছরে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার  কারনে মুরগির খুব  একটা  সমস্যাও হয়নি। যার কারনে বর্ধিত এই প্যারেন্টস্টক হইতে উৎপাদিত একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চা ও ডিমের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশী হয়ে গেল। আর তাই ২০১১ সাল সারা বছর ব্যাপি লেয়ার বাচ্চার দাম ১০-১৫ টাকায় এবং ডিমের দামও প্রতিটা ৪.৫০ টাকায় নেমে এল।এই সময়ে সরকারের নির্ধারিত ৩২ টাকায় কেউ বাচ্চা বিক্রয় করতে পারেনি। তাই ২০০৯-১০ এ  যারা নতুন ভাবে হ্যাচারী প্রতিষ্ঠা করেছিল তারা ব্যাপক হারে লোকসান গুনতে শুরু করলো। এই কারনে ২০১১ সালে প্যারেন্ট আমদানি কমে গিয়ে আবার ৩,৫০,০০০ এ দাড়াল। এই যখন অবস্থা, তখন ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে  এভিয়ান  ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদূর্ভাব ব্যাপকভাবে দেখা দিল এবং তা ২০১২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত থাকলো। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কারনে ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে ২০১২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪৭% বানিজ্যক খামার ও ৫৯% লেয়ার ব্রীডার ফার্ম বন্ধ হয়ে গেল।  একদিকে প্যারেন্ট কম আনা হলো  অন্য দিকে  এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার কারনে অনেক প্যারেন্ট শেষ হয়ে গেল। আবার ২০১১ সালের শেষের দিকে কিছু বড় বড় হ্যাচারী প্যারেন্ট আমদানির আবেদন করলেও মন্ত্রনালয় থেকে দেরিতে অনুমতি প্রদান করায় সমস্যা আরও বেড়ে গেল। ফলাফল যা হবার তাই হলো, বর্তমানে একদিন বয়সী লেয়ার বাচ্চার দাম  যেমন আকাশচুম্বি,তেমনি ডিমের দামও অনেক বেশী। তাই এই প্যারেন্টের প্রয়োজনের তুলনায় কম বেশী হওয়ার কারনেই আজকে বাচ্চা ও ডিমের দাম কম বেশী হচ্ছে। আমদানি করেও স্থিতিশিল রাখা যাচ্ছে না।

এবার আসি কি পরিমান লেয়ারপ্যারেন্ট আমদানি হওয়া দরকার। আমাদের দেশে মোটামুটি ৪,০০,০০০ প্যারেন্ট প্রতিবছর নিয়মিত আমদানির ব্যবস্থা করতে পারলে এই সংকট তৈরী হবে না। প্রতি বছর ১০% করে বৃদ্ধি করে প্যারেন্ট আমদানির  ব্যবস্থা নিলে আগামী দিনে তা ভোক্তা  ও উৎপাদন কারী  সকলের  জন্য মঙ্গলজনক হবে।  আমাদের প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয় যেহেতু আমদানির  অনুমোদন দিয়ে থাকে, তাই তারাই এর  প্রকৃত সংখ্যা  নিরুপন করে ব্রীডার  ফার্মমালিকদের উৎসাহিত করবেন যাতে করে প্রতিবছর যেন প্রয়োজন অনুসারে প্যারেন্ট আমদানি করা হয়। তাহলে বাচ্চার উৎপাদন সারাবছর ব্যাপি প্রায় একই ও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে এবং ডিমের মূল্য সঠিক থাকবে। সবাই লাভবান হবেন। সরকারও সমালোচিত হবে না। এই বিষয়টি যদি সরকার সঠিকভাবে করতে পারে,তাহলে ডিম ও বাচ্চার দাম বছরের পর বছর একই হারে থাকবে। যদি কোন কারনে হ্যাচারী মালিকরা আমদানিতে অনিহা প্রকাশ করে তবে সরকার নিজেই আমদানি করে বাচ্চার বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারে। তবে ২০১২ সালে ইতিমধ্যে প্রায় ২,০০,০০০ প্যারেন্ট আমদানি করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। আশা করি সরকার ও হ্যাচারী মালিকরা এই বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখবেন এবং আগামি ২০১৩ সালের শেষের দিকে আবার খামারীরা যেন ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।)

উপরের লেখাটা আমি লিখেছিলাম ২০১২ সালে।

২০১৩-১৪ সালে মুটামুটি ডিমের বাজার ভাল ছিল। ১৫-১৬ তে খাদ্যের দাম কিছুটা কমার কারনে মার্কেট স্থিতিশীল ছিল। ফলে এই সময়ে ডিম উৎপাদনে অনেক বড় বড় উদ্যোক্তার জন্ম হলো এবং একই সাথে যারা বড় ছিল তারা তাদের বানিজ্যক ডিম উৎপাদন আরও বাড়িয়ে দিল। এই সময়ে পুরুনো খামার চালু সহ নতুন নতুন আরও বহু খামার গড়ে উঠল। স্বাভাবিক কারনেই লেয়ার বাচ্চার ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত চাহিদা বেড়ে গেল, দাম ১০০-১২০ টাকা হয়ে গেল, একটা সময় বাচ্চা পাওয়াই যাচ্ছিল না এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো । ফলে আবারও ছোট বড় হ্যাচারী গড়ে উঠল, প্যারেন্ট আমদানি শুরু হলো। এই লেয়ার প্যারেন্ট আমদানি ২০১৫ সাল থেকেই ধারাবাহিক ভাবে প্রতি বছর বেড়েছে এবং ডিমের দামও তুলনামুলক ভাল থাকাতে উদ্যোক্তাগন দেশের প্রকৃত ডিমের চাহিদার কথাই ভুলে গেলেন। এর মাঝে আবার রপ্তানি করার আশ্বাস পাওয়ায় দেশি বিদেশী বিনিয়োগ বাড়তে লাগলো।

কিন্তু একটা বিষয় আমাদের মাথায় কখনও আসলো না আসলে আমাদের দেশে মোট কত ডিম দরকার আর এর জন্য কত লেয়ার প্যারেন্ট দরকার। আর এই চিন্তাটা কখনও প্রান্তিক খামারীরা করবে না। এটা করতে হবে যারা নীতি নির্ধারনীতে আছেন তাদের। এখানে উল্লেখ করতে পারি, আজ থেকে ৩-৪ বছর আগেও জানি মাথা পিছু ডিম ৫৫-৬০ টি, তখন প্যারেন্ট ছিল প্রায় ৫ লক্ষ, তাহলে এই ডিম গ্রহনের পরিমান যদি ১০৪ টিতে যায় অর্থাৎ উন্নত দেশের মতো হয়(যদিও আমরা নিম্ন মধ্যবিত্য) তবুও ৯ লক্ষের বেশি লেয়ার প্যারেন্ট দরকার নাই। এর বেশি প্যারেন্ট আসলে উৎপাদিত ডিম দেশের বাইরে রপ্তানি করতে হবে। প্রকৃ্ত পক্ষে দেশে এখন সর্বোচ্চ চাহিদার চেয়েও উৎপাদন বেশি। তারই একটা বাস্তব হিসাব নিকাশ তুলে ধরছি।

এবার আসি আসলে আমাদের কি পরিমান ডিম দরকার এবং সেই অনুযায়ী লেয়ার ও লেয়ার প্যারেন্ট কত হওয়া উচিৎ।

আমাদের দেশের একজন মানুষ যদি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা হিসাব অনুযায়ী সপ্তাহে ২ টি করে অর্থাৎ বছরে ১০৪ টি করে ডিম খায় তাহলে সপ্তাহে মোট ডিমের প্রয়োজন ৩২ কোটি (জনসংখ্যা ১৬ কোটি ধরে)। এই ৩২ কোটি ডিম উৎপাদন করতে প্রতিদিন ডিম উৎপাদন দরকার ৪ কোটি ৫৭ লক্ষ। এই পরিমান ডিম উৎপাদন করতে লেয়ার মুরগি দরকার ৫ কোটি ৭১ লক্ষ ২৫ হাজার (গড় উৎপাদন ৮০% ধরে)।  এই ৫ কোটি ৭১ লক্ষ ২৫ হাজার  মুরগি  সারা বছর ব্যাপি ডিম পাড়া অবস্থায় রাখতে হলে বছরে মোট একদিন বয়সি লেয়ার বাচ্চা দরকার ৮ কোটি ৫৬ লক্ষ ৮৮ হাজার (এর মধ্যে ২ কোটি ৮৬ লক্ষ লেয়ার পুলেট অবস্থায় থাকবে)। এই ৮ কোটি ৫৬ লক্ষ ৮৮ হাজার লেয়ার বাচ্চা উৎপাদন করতে আমদানিকৃ্ত বছরে লেয়ার প্যারেন্ট বাচ্চা দরকার ১০ লক্ষ ২৮ হাজার যার মধ্যে ৬ লক্ষ ৮৬ হাজার  উৎপাদনে থাকবে (১২৫ টি লেয়ার বাচ্চা/প্যারেন্ট)।

তাহলে কি দাঁড়ালো- যদি আমরা প্রত্যেকে বছরে ১০৪ টি করে ডিম খাই (যদিও সরকারী হিসাবে ৯০-৯৫ আর বেসরকারী হিসাবে ৬৫-৭০ টি ডিম) তাহলে  আমাদের দেশে ১ দিন বয়সী লেয়ার প্যারেন্ট দরকার ১০ লক্ষ ২৮ হাজার। আর অন্যান্য ডিম যদি ১০% ধরি তাহলে সর্বোচ্চ প্যারেন্ট দরকার ৯  লক্ষ ২৫  হাজার। আমার জানামতে ২০১৭ সালে দেশে লেয়ার প্যারেন্ট আসছে প্রায় ১২ লক্ষাধিক এবং লেয়ারের জিপিও এসেছে।এই জিপি থেকেও আরও লেয়ার প্যারেন্ট আমদানিকৃ্ত প্যারেন্টের সাথে যোগ হয়েছে। তাহলে আজকে আমরা যারা ডিমের প্রকৃ্ত চাহিদা, উৎপাদন ও ডিম খাওয়ার পরিমান এবং এর বহুমুখি ব্যবহার  নিরূপন না করে ধুম ধারাক্কা লেয়ার প্যারেন্ট আমদানি করছি, যারা সব সময় ব্রয়লার প্যারেন্ট করতাম  তারাও কিছু কিছু লেয়ার  প্যারেন্ট  আমদানি শুরু করলাম – এখন কি হবে?

যারা বড় তাদের গত ২ বছরে যা আয় হয়েছে তাতে ২০১৮ সাল পুরাটা দাম না পেলেও চলবে। কিন্তু যারা বেশি দামের আশায় কোন রকম হিসাব নিকাশ ছাড়াই প্যারেন্ট আনলাম, খামার করলাম, ফিডমিল দিলাম, হ্যাচারী করলাম, মেডিসিন কোম্পানি দিলাম, তাদের এই লোকশান কি কখনো পূরণ হবে? তারা কি আবার ঘুরে দাড়াতে পারবে? সুন্দর সোনালী স্বপ্নে বিভোর হয়ে ডিমে আমরা স্বয়ং সম্পূর্ন হবো, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করবো- কিন্তু  একই  হাল? একই চিত্র?

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ও কিছু করার নাই। কারন তাদের আমদানি নিয়ন্ত্রন করার কোন আইন নাই। বড়দের ছাড় দিতেই হয় কারন তারা বড়,এ শিল্পের যত উন্নয়ন তারাই করে যাচ্ছে !  আর ছোটদের তো আমদানিতে উৎসাহিত করতেই হয় কারন এ শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। সরকারের একটি বাড়ী  একটি  খামার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমার এতো গুলো কথা কারো পড়ার সময় হয়তো হবে না, তবুও বলছি-আজকে সময় এসেছে এ  শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলে  মিলে সরকারী, বেসরকারী, ছোট বড়  সকল সংস্থা একীভুত হয়ে একটি শক্তিশালী  কমিটি গঠন করতে হবে। যে কমিটি  দেশের লক্ষ লক্ষ  ক্ষুদ্র  উদ্যোক্তাদের  বাঁচাতে,ডিম, মাংস, দুধের প্রকৃ্ত চাহিদা নিরূপন করে সেই অনুযায়ী ব্রয়লার জিপি, ব্রয়লার ও লেয়ার প্যারেন্ট, উন্নত জাতের গরু আমদানি  করার অনুমোদন দিতে হবে। উৎপাদিত ডিম, মাংস, দুধের দাম নির্ধারন করে দিতে  হবে যাতে উৎপাদনকারী ও ভোক্তা  উভয়েই লাভবান হয়।  আর  যারা বড় আকারে করবেন তাদের অবশ্যই বিদেশে রপ্তানি করার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং সেই ভাবেই তাকে উৎপাদন করতে হবে যাতে বিদেশে রপ্তানি করতে কোন সমস্যা না হয়। মনে রাখতে হবে আমরা এখনও উন্নত জাতিতে পরিনত হতে পারিনি, আমাদের অর্থনীতি  এখনও কৃ্ষি ও প্রাণিসম্পদ  নির্ভর।দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ এখনও গ্রামীন কৃ্ষি, পোল্ট্রি ও গবাধি প্রাণির উপর নির্ভরশীল। দেশের লক্ষ লক্ষ নারী-পূরুষ,

যুব সমাজ কে বেকারত্বের হাত থেকে বাঁচাতে সরকারের এবং সেক্টরের বিভিন্ন সংস্থা কে এক যুগে কাজ করার সময় এসেছে। আর এটা না করতে পারলে মাঝারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শেষ হয়ে যাবে এবং সেই সাথে সাথে এদের সাথে জড়িত লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। আর তখন বড় বড় ও বহুজাতিক কোম্পানীগুলো নিজেদের ইচ্ছে মতো বাংলাদেশের মার্কেট নিয়ন্ত্রন করবে। আমার এই লেখা আমার একান্ত মতামতের প্রতিফলন এবং ১৫ বছর ধরে সেক্টরে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা। এতে  কেউ কোন প্রকার কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি। আমি একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়ে আকুল আবেদন-এর একটা সুন্দর সমাধান চাই। ধন্যবাদ।

ডাঃ মোহাম্মদ সরোয়ার জাহান
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
সেইফ বায়ো প্রোডাক্টস্ লিঃ
+৮৮০-১৯০৪-৪৮৮৬০০

আসুন ভেট মোরশেদকে বাঁচাতে এগিয়ে আসি

চট্রগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডাঃ মোঃ মঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরী বিগত এক বছর যাবৎ দূরারোগ্য ক্রোনস্ ডিজিসে (Crohn’s Disease) ভুগছেন। ক্রমান্নয়ে তার শরীরের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। উল্লেখ্য বাংলাদেশ ও ভারতে চিকিৎসার পরও কোন সুফল পাননি এই তরুণ ভেটেরিনারিয়ান। ডাঃ মোরশেদের বর্তমান চিকিৎসক থাইল্যান্ডে রোগটির সুচিকিৎসার ব্যবস্থা আছে বলে জানিয়েছেন। থাইল্যান্ডে গিয়ে উন্নত চিচিৎসা নিতে প্রয়োজন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। কিন্তু ডাঃ মোরশেদ তার তাঁর পরিবারের পক্ষে এই বিপুল পরিমান অর্থ সংস্থান করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় ডাঃ মোরশেদ ও তাঁর পরিবার দেশের মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন।

চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা ডাঃ মোরশেদের মত একজন তরুণ এবং সম্ভাবনাময়ী ভেটেরিনারিয়ানকে হারানো আমাদের জন্য হবে অত্যন্ত কষ্টের এবং দেশের জন্য হবে অপূরণীয় ক্ষতি। ইতোমধ্যে সিভাসুর প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠন সিভাসু এলামনাই এসোসিয়েশন ডাঃ মোরশেদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছে।

আসুন ডাঃ মোরশেদ বাঁচাতে আমরাও আমাদের সাহায্যের হাতকে প্রসারিত করি।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানাঃ

CVASU Alumni Association
A/C No. 0100095316136
Swift Code: JANBBDDHLDE
Bank Address: Janata Bank Limited, Chittagong Veterinary and Animal Sciences University Branch, Khulshi, Chittagong-4225
Bkash: 01675 6574039, 01675 6574039

Executive Committee of BDvetNET

A new executive committee for BDvetNET has been formed in an EC-meeting held on March 25, 2018 at the Department of Microbiology and Hygiene, Bangladesh Agricultural University, Mymensingh-2202. The meeting was presided over by the acting president of the Network for the Veterinarians of Bangladesh Professor Dr. Md. Masudur Rahman.

The newly formed committee is given below:

The newly formed committee can be accessed by CLICKING HERE.

Best Oral and Poster Presentation Awardees at BSVER ASCon XXIV

In the BSVER ASCon XXIV 2018, two oral presenters and one poster presenter have been awarded “BSVER Young Scientist Best Presentation Award 2018” and “Best Poster Award” respectively.

Dr. Md. Golzar Hossain, Assistant Professor, Department of Microbiology and Hygiene, Bangladesh Agricultural University, as one of the Best Oral Presentation Awards, presented on the topic entitled- Functional significance of promyelocytic leukemia protein (PML) on Kaposi’s sarcoma associated Herpesvirus lytic replication. The other oral presentation awardee Nurjahan Yasmin Runa, an MS student at Sylhet Agricultural University presented on the topic entitled- Effect of dietary supplementation of bacteriophage in broiler chicken for growth performance, blood characteristics and colonization of Salmonella and E. coli.

On the other hand, Anita Rani Dey, a PhD student at the Department of Parasitology, Bangladesh Agricultural University, has been awarded “Best Poster Presentation Award 2018”. She presented her poster on the topic entitled- Multiple anthelmintic resistance in gastrointestinal nematodes of sheep and goats in Bangladesh.

Congratulations to the winners this year!!

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (বিএসভিইআর) এর নববির্বাচিত কার্যকরী কমিটি

বিএসভিইআর আয়োজিত দু’দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের সমাপনি অনুষ্ঠানে আজ সোসাইটির পরবর্তী দুই বছরের জন্য কার্যকরী কমিটি নির্বাচিত হয়েছেন। কমিটি নিম্নরুপঃ

সভাপতিঃ প্রফেসর ড. এএস মাহফুজুল বারী, প্যাথলজি বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

সহ-সভাপতিঃ প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগ, বাকৃবি।

কোষাধ্যক্ষঃ প্রফেসর ড. মোঃ তৌহিদুল ইসলাম, মেডিসিন বিভাগ, বাকৃবি।

সাধারণ সম্পাদকঃ প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল আলীম, প্যারাসাইটোলজি বিভাগ, বাকৃবি।

যুগ্ম-সম্পাদকঃ  ড. কেএম মোজাফ্ফর হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

সদস্যঃ (জেষ্ঠক্রম নয়)

ড. আলমগীর হোসেন, চট্রগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম।

ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, ফার্মাকোলজি বিভাগ, বাকৃবি।

ড. জাহাঙ্গীর আলম, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি, সাভার, ঢাকা।

ড. মনিরা নুর, প্যাথলজি বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

ড. মোঃ মাহমুদুল আলম, সার্জারী ও অবস্ট্রেট্রিক্স বিভাগ, বাকৃবি।

ড. বেগম ফাতেমতুজ্জোহরা, হাজী দানেশ মোহাম্মদ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।

ড. মোঃ নুরুল আমিন, এসিআই।

ড. সুলতান আহমেদ, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

ড. এমদাদুল হক চৌধুরি, প্যাথলজি বিভাগ, বাকৃবি।

Fifteenth International Scientific Conference (ISCon XV) at CVASU

Fifteenth International Scientific Conference (ISCon XV) of Chittagong Veterinary and Animal Sciences University (CVASU) will take place at Chittagong on 12-13 May, 2018. The theme of the conference is “Role of Livestock and Fisheries Towards a Sustainable Food System for a Middle Income Country like Bangladesh”.  The relevant professionals and scientists are encouraged to submit their research article(s) as per the time frame given below.

United Nations (UN) has recently declared Bangladesh a middle income country as country’s per capita income reached to US$1,610 alongside 7.28% increase in the growth rate. It’s obligatory to identify the challenges in livestock and fisheries sectors and also to define the strategies for the development of a sustainable food system in Bangladesh. The conference will also highlight various opportunities of Fisheries sector towards development of a sustainable food system. Experts from the relevant multidisciplinary fields will discuss the framework development, implementation and its scopes for the welfare of the people of Bangladesh.

Abstract submission deadline: 05 April 2018

Registration: 26 April 2018

Abstract (within 400 words) should be submitted to-  abstract@cvasu.ac.bd

চব্বিশতম বিএসভিইআর বার্ষিক সম্মেলন শুরু

আজ ২৪ মার্চ ২০১৮ রোজ শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো দু’দিনব্যাপি সম্মেলন। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (বিএসভিইআর) কর্তৃক আয়োজিত এ সম্মেলন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে সকাল আটটায় শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ আলি আকবর, মাননীয় উপাচার্য, বাকৃবি। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি’র সাবেক উপাচার্য ও এমিরেটাস প্রফেসর, প্রফেসর ড. এম.এ. সাত্তার মন্ডল। প্রফেসর ড. মোঃ জসিমউদ্দিন খান, প্রো-ভিসি, বাকৃবি, প্রফেসর ড. প্রিয় মোহন দাস, ডিন, ভেটেরিনারি অনুষদ, বাকৃবি, ও জনাব সামসুল আরেফিন খালেদ, প্রেসিডেন্ট, ওয়াপসা-বিবি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেণ প্রফেসর ড. মোঃ শহিদুর রহমান খান, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট, বিএসভিইআর।  কনফারেন্সে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর সিম্পোজিয়াজ অনুষ্ঠিত হবে যা যথাক্রমে- Antimicrobial resistance ও Prioritizing Zoonotic Diseases: One-Health Approach in Bangladesh।

দু’দিন ব্যাপী এ সম্মেলনে মোট ১১৫ টি সায়েন্টিফিক পেপার উপস্থাপিত হবে। বাংলাদেশেসহ বিভিন্ন দেশের পাচশতাধিক বিজ্ঞানী এ সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন।