প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (১৯৩৯-২০১৯) এর ইন্তেকাল

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন আজ সকাল ০৮:০০ ঘটিকায় ঢাকাস্থ তাঁর নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহে রাজিয়ুন) মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। প্রফেসর হোসেন ১৯৩৯ সালের ২রা জানুয়ারী নাটোর জেলার বৃটয়া প্রামের জন্মগ্রহন করেন। তিঁনি ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি (ভেট সায়েন্স এন্ড এএইচ) ও এমএসসি (ভেটেনিনারি এনাটমি) ও অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালে তৎকালিন ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচারল ইউনিভার্সিটি (বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) তে প্রভাসক পদে যোগদান করেন। ২০০১ সালে প্রফেসর হোসেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহন করেন।

সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। পারিবারিক জীবনে মৃত্যুকালে তিনি ২ পুত্র ও ১ কন্যা রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুর মাধ্যমে আমরা একজন মেধাবী ও দক্ষ ভেটেরিনারিয়ানকে হারালাম। নেটওয়ার্ক ফর দি ভেটেরিনারিয়ানস অব বাংলাদেশ (বিডিভেটনেট)’র পক্ষ থেকে আমরা তাঁর বিদেহী আত্বার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।

সাইম্যাগো ইন্সটিটিউশন র‍্যাঙ্কিং (SCImago Institutions Rankings)-এ বাংলাদেশের ১৫ বিশ্ববিদ্যালয়

সাইম্যাগো ল্যাব একটি প্রযুক্তি ভিত্তিক সংস্থা যা বৈজ্ঞানিক দৃশ্যমানতা এবং অনলাইন সম্মাননা উন্নত করার জন্য উদ্ভাবনী সমাধানগুলি সরবরাহ করে। সাইম্যাগো গবেষণা গ্রুপ (SCImago Research Group) স্পেন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান যেটি স্প্যানিশ ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল (সিএসআইসি), গ্রানাডা বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রিদের চার্লস তৃতীয় ইউনিভার্সিটি, আলকলা বিশ্ববিদ্যালয়, এক্সট্রিমাদুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্পেনের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সদস্য দ্বারা গঠিত এবং পরিচালিত।

সাইম্যাগো ল্যাব বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়সহ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের র‍্যাঙ্কিং করে থাকে। এদেরকে ব্যক্তিগত ভাবে কোন তথ্য উপাত্ত দিতে হয় না। উনারা নিজেরাই Scopus ডাটাবেস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রকাশিত গবেশনাপত্রের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক কোলাবোরেসন, গবেষণার ইমপ্যাক্ট এবং প্রকাশের হারের উপর ভিত্ত করে (Research-50%, Innovation 30%, এবং  Societal 20%) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে র‍্যাঙ্কিং করে।  ২০১৯ সালে সারা বিশ্বের উচ্চ শিক্ষার সাথে জড়িত ৩৪৭১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং করে (র‍্যাঙ্কিং স্কোর ১ থেকে ৬৮২ নং পর্যন্ত, কারণ একই স্কোরে অনেক সময় অনেক কয়টি বিশ্ববিদ্যালয় পরে যায়)। এই র‍্যাঙ্কিং এ সরকারি বেসরকারি মিলে বাংলাদেশের ১৫ টি, ভারতের ২১২ টি, পাকিস্তানের ৩৮টি এবং নেপালের ২ টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংএ বাংলাদেশের সব চেয়ে প্রথমে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  সিরিয়াল ১৭৬৫ (৫৪০ তম, ১-৬৮২ তম এর মধ্যে), এর পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরিয়াল ২০১২ (৫৫৩ তম, ১-৬৮২ তম এর মধ্যে) এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরিয়াল ২২২৯ (৫৬৫ তম, ১-৬৮২ তম এর মধ্যে)। বাকি গুলোর মধ্যে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (২৩১২, ৫৬৯ তম), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (২৩৬৪, ৫৭২ তম), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (২৩৯৯, ৫৭৪ তম), ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় (২৬০৭, ৫৮৫ তম), চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (২৬৩৭, ৫৮৭ তম), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (২৬৬৪, ৫৮৮ তম), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (২৯৬০, ৬০৭ তম), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (২৯৯০, ৬১০ তম), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (৩০১৭, ৬১২ তম), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (৩০৯৩, ৬১৭ তম), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (৩১৭৮, ৬২৩ তম), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি (৩৩৯৩, ৬৪৭ তম)।

এই র‍্যাঙ্কিং এ এশিয়ার ১১৬৩ টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে যার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৫৪১ (২৬৭ তম, এশিয়ার ১-৩৯৩ তম এর মধ্যে), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৬১৩ (২৮০ তম), এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৬৮৭ (২৯২ তম)।

তথ্য সুত্রঃ

https://en.wikipedia.org/wiki/College_and_university_rankings#SCImago_Institutions_Rankings

https://www.scopus.com

http://www.scimagolab.com/

https://www.scimagoir.com/rankings.php?sector=Higher%20educ.&country=all

লেখক:

ডঃ মোঃ গোলজার হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ, Email: mghossain05@gmail.com

বর্তমানে: পোষ্ট ডক্টরাল গবেষক, ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান

টিকা ও জন সচেতনতায় ছাগলের পিপিআর (ছাগলের প্লেগ) রোগে মৃতের হার শুন্যের কোঠায়

বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশী ভেটেরিনারিয়ানদের সংগঠন নেটওয়ার্ক ফর দি ভেটেরিনারিয়ানস অফ বাংলাদেশ (বিডিভেটনেট) ও ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সোসাইটির সহায়তায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)’র ভেটেরিনারি অনুষদের ডিভিএম পড়ুয়া একদল ছাত্র-ছাত্রীদের সামাজিক কর্মকান্ড হিসেবে পরিচালিত প্রতি ছয় মাস অন্তর ছাগলের পিপিআর রোগের টিকা প্রদান কর্মসূচি ও জন সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে একটি চরে পিপিআর ঘটিত ছাগল মৃত্যুর হার শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

   

পিপিআর রোগে আক্রান্ত ছাগলের ৯০% পর্যন্ত মারা যেতে পারে। টিকা প্রদান কর্মসূচী শুরুর আগে যেখানে বছরে ৫০০-৬০০ ছাগল মারা যেত দুই বছর পর সেখানে পিপিআর ঘটিত মরণ নাই বললেই চলে।  ময়মনসিংহ সদর থানায় অবস্থিত দক্ষিণ চর কালিবাড়ীতে দুই বছর আগে শুরু হয় টিকা প্রদান কর্মসূচী ও জন সচেতনতা সৃষ্টির কাজ। চর এলাকাটিতে প্রথম বছরে টিকা প্রদান কর্মসূচী শুরুর আগে ছাগল মৃত্যুর হার ছিল প্রায় ৪৫%। এক বছর পর তা নেমে আসে প্রায় ১৫% এ, যা তৃতীয় বছরে শুন্যের কোঠায় নেমে আসলো। প্রথম অবস্থায় ছাগলে টিকা প্রদানে অনেকের মধ্যে আগ্রহের কমতি থাকলেও বর্তমানে গ্রামের ছাগল পালনকারী সবাই টিকা প্রদানের ব্যাপারে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। নিজ দায়িত্বে এখন তারা টিকা প্রদান কেন্দ্রে তাদের ছাগল নিয়ে আসছে।

  

ছাগল মৃত্যুর হার লক্ষনীয় মাত্রায় কমে আসায় প্রান্তিক খামারীদের চোখে-মুখে স্বস্তি ও আত্ববিশ্বাস ফিরে এসেছে। এখন চর এলাকাটিতে প্রচুর পরিমানে ছাগল দেখা যায় যা চোখে পড়ার মত। ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সোসাইটির বিএইউ ক্যাম্পাস এম্বাসেডর জনাব প্রাভীন মিশ্র ও তার সহযোগী জনাব মোঃ মুকিত মাহমুদসহ অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করছে। মহাখালীস্থ প্রানীসম্পদ গবেষনা প্রতিষ্ঠান (এলআরআই) উৎপাদিত পিপিআর টিকা কার্যকরভাবে ছাগলের পিপিআর রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হিসেবে প্রমানিত হয়েছে- বলেছেন প্রফেসর ড. কেএইচএম নাজমুল হুসাইন নাজির, মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগ, বাকৃবি ও সাধারণ সম্পাদক, বিডিভেটনেট।

২০১৭ সালে এফএও এবং ওআইই ঘোষিত পিপিআর ইরাডিকেশন প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনে এ পিপিআর টিকা প্রদান কর্মসূচী ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন কর্মসূচীতে অংশগ্রহনকারী সাহেদ, সামিন, সেতু, আলমগীর, নিলিমা, মীম, শ্রাবনী, আশরাফ, জুম্মান, রহিমা, আব্দুল হাকিম, আব্দুল্লাহ, রায়হান, বিবেগ, শুভেচ্ছা, রাভি, জেবা, নিঝুম, নাসিম ও সাদাব।

বাকৃবিতে বর্নাঢ্য আয়োজনে পালিত হলো বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০১৯

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হলো বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস। প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শেষ শনিবার সারা বিশ্বে একযােগে পালিত হয় বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস। এ বছর মুল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “ভ্যালু অব ভ্যাক্সিনেশন”। এ উপলক্ষে আজ (২৭ এপ্রিল ২০১৯; শনিবার) সকাল ১০:০০ টায় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ভেটেরিনারি অনুষদ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন অনুষদ ও ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন শেষে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন ভবনে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে দিনের কর্মসূচী হিসেবে বেলুন উড়ানো হয়। সকাল ১০:৩০ টায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন ভবনে এক সেমিনার আয়োজন করা হয়।

    

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ আলী আকবর, মাননীয় উপাচার্য, বাকৃবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, আহবায়ক, ডিন কাউন্সিল, বাকৃবি ও ডিন,  মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ, ও ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, ডিডি, বিভাগীয় প্রানীসম্পদ দপ্তর, ময়মনসিংহ। অনুষ্ঠানে প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. আবু হাদি নুর আলি খান, প্যাথলজি বিভাগ, বাকৃবি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. নাজিম আহমাদ, ডিন, ভেটেরিনারি অনুষদ।

    

শোভাযাত্রা ও সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ভেটেরিনারিয়ান এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

বাকৃবিতে ‘এনিমেল লাভারস সোসাইটি’ এর যাত্রা শুরু

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে আজ (২৭ এপ্রিল ২০১৯; শনিবার) যাত্রা শুরু হলো এনিমেল লাভারস সোসাইটি। ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাজিম আহমাদ। সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল আলম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ আরিফুল ইসলাম, মেডিসিন বিভাগ, বাকৃবি ও সাংগঠনিক সভাপতি, এনিমেল লাভারস সোসাইটি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন জনাব তিতাস পাল, সাধারণ সম্পাদক, এনিমেল লাভার সোসাইটি।

দুর্যোগকালীন সময়ে পশুপাখির সেবা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ব্যাবস্থাপনা প্রদান, জনসচেতনতা তৈরি, টীকাদান কর্মসূচীসহ বিবিধ উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে কাজ করবে এ সোসাইটি। অনুষদের শিক্ষকমন্ডলী, ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন লেভেলের ছাত্রছাত্রী এবং আমন্ত্রিত অতিথি মিলে প্রায় একশজন দর্শক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

“Workshop on Safe Poultry Meat and Egg Production” at BAU, Mymensingh

Today (April 13, 2019), a day-long “Workshop on Safe Poultry Meat and Egg Production” has been successfully completed at Bangladesh Agricultural University (BAU), Mymensingh. The workshop was jointly organized by PSA Hatchery, Poultry Science Association, USA and Network for the Veterinarians of Bangladesh (BDvetNET). As the Chief Guest, the event was inaugurated by Prof. Dr. Nazim Ahmad, Dean, Faculty of Veterinary Science, BAU. Prof. Dr. Mst. Minara Khatun, Department of Microbiology and Hygiene, BAU was present in the event as the Special Guest. The inaugural session was presided by Dr. KHM Nazmul Hussain Nazir, General Secretary, BDvetNET, and Prof., Department of Microbiology and Hygiene, BAU, Mymensingh. The event was started with the welcome speech given by Mr. Pravin Mishra, Campus Ambassador, International Youth Society, BAU, Mymensingh.

A keynote entitled “Poultry Production in the Post-Antibiotic Era: Challenges and Opportunities” was given by Dr. Rajesh Jha, Associate Professor, Animal Nutrition and Graduate Chair of Animal Science, Department of Human Nutrition, Food and Animal Sciences, University of Hawaii at Manoa, HI, USA. Dr. Jha is a renowned scientist in the field of nutrition, gut health and production of safe poultry and poultry products. Through a video conference, Dr. Jha explained how healthy gut and nutritional ecology can help in the production of safe poultry and poultry products. Besides, effect of prebiotic and probiotic on safe poultry meat and egg production was elaborately discussed.

A special talk on “Heavy Metals in Poultry and Poultry Products” was given by Prof. Dr. Quazi Forhad Quadir, Department of Agricultural Chemistry, BAU, Mymensingh. Dr. Quadir emphasized on the use of safe feed and water for the reduction of heavy metal level and antibiotic residues in the poultry and poultry products. The participants experienced the technique of vaccination of poultry with their hands. Practical aspects of biosecurity in the poultry farm were also discussed by Dr. Hadiuzzaman.

A total of 50 pre-registered veterinary students of BAU originated from Bangladesh, Nepal and Malaysia participated in this event. The students received certificates after successful completion and active participation in the event. The event was very interactive and enjoyable for the students, as mentioned by a participant.

Workshop on Safe Poultry Meat and Egg Production

A day-long workshop has been arranged, entitled “Workshop on Safe Poultry Meat and Egg Production“, jointly by the Network for the Veterinarians of Bangladesh and PSA Hatchery, Poultry Science Association, USA.

In the event, a Key Note will be presented by Dr. Rajesh Jha, Associate Professor, Department of Human Nutrition, Food and Animal Sciences, University of Hawaii at Manoa, USA. A special talk entitled “Heavy metals in Poultry and Poultry Products” will be delivered by Prof. Dr. Quazi Forhad Quadir, Department of Agricultural Chemistry, Bangladesh Agricultural University, Mymensingh-2202. Besides these lectures, the participants will be experienced with the actual techniques of vaccination to poultry and bio-security in poultry farms in Bangladesh.

A total of 50 pre-registered participants (mostly of DVM students) will attend the event.

কক্সবাজারে তিনদিন ব্যাপী ২য় ‘সিভেট সম্মেলন’ শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে শুরু হয়েছে ভেটেরিনারিয়ানদের সবচেয়ে বড় কনফারেন্স 2nd Conference of Continuing Education for the Vets and Animal Husbandry Graduates of Bangladesh বা CEVET কনফারেন্স।

তিন দিনব্যাপী এই কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় হাজার জন ভেটেরিনারিয়ান ও পশুপালন গ্র্যাজুয়েটরা অংশগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি চাকুরীজীবি ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

২৪-২৬ নভেম্বর তিনদিন ব্যাপী সম্মেলটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে কক্সবাজারের Royal Tulip Sea Pearl Beatch Resort এ। বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল, জাতীয় ভেটেরিনারি ডীন কাউন্সিল ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করছে এবং সম্মেলনে টেকনিক্যাল সহায়তা দিচ্ছে Food and Agriculture Organization (FAO).

বাকৃবিতে ডিভিএম শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপ শুরু

শনিবার (জুলাই ২৮, ২০১৮) এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ডিভিএম ব্যাচের ছাত্র-ছাত্রীদের ইন্টার্নশীপ শুরু হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে ইন্টার্নশীপ উদ্বোধন করেণ বাকৃবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলী আকবর। ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাজিম আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে  গেস্ট অব অনার অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশনের সদস্য ও বাকৃবি’র সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আখতার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ঢাকা ডিভিশনের উপ-পরিচালক ড. মো. আব্দুল হালিম, রেনেটা এ্যানিমেল হেলথ ডিভিশনের মার্কেটিং হেড ডাঃ বিশ্বজিৎ রায়।

১৬তম ডিভিএম ইন্টার্নশীপ এর উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক।

ডিভিএম ডিগ্রির অংশ হিসেবে এ বছর সর্বোমোট ১৩০ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে ৬ (ছয়) মাস ব্যাপী ইন্টার্নশীপ প্রোগামে অংশ নিচ্ছে। ইন্টার্নশীপ চলাকালীন সময়ে প্রতি শিক্ষার্থী প্রতি মাসে পনের হাজার টাকা করে ভাতা প্রাপ্ত হবেন।

সুস্থ্য, মেধাবী ও উন্নত জাতি গঠনে ভেটেরিনারিয়ান

বাংলাদেশ এক সময় ক্ষুধা ও দারিদ্রের দেশ ছিল। পৃথিবীর উন্নত দেশের মানুষ ভাবতো এতো ছোট একটা দেশ আর এতো এতো মানুষকে কিভাবে খাওয়াবে? স্বাধীনতার পর শুরু হলো আমাদের কৃ্ষিবিদ বিজ্ঞানীদের নিরলস গবেষনা কি করে অল্প জমিতে অধিক ফলনশীল ধানের জাত রোপন করা যায়? অধিক ফসল ফলানো যায়। সফল হলেন। ভাতের অভাব দুর হয়েছে অনেক আগেই । তারপর ভাবনায় এলো শুধু ভাত খেয়ে তো আর উন্নত মেধা সম্পন্ন জাতি গঠন সম্ভব নয়। দরকার আদর্শ খাবার। আদর্শ খাবার কি? দুধ, ডিম, মাছ, মাংস। আমরা ছোট কালে দেখেছি মানুষ শুধু পেটে খেয়ে সারাদিন কাজ করে দিতো। এর পর সারাদিন কাজ করে ১ কেজি চাল কেনার টাকা হতো। সেটা দিয়ে তার পরিবারের খাদ্যের যোগান হতো ঠিকই কিন্তু দুধ, ডিম, মাংস মাসে একবারও চোখে পড়তো না। ফলে শিশুদের চেহারা এমন- কারও পেট বড়, কারও চোখ গর্তে, বেটে, মাথা বড়, পা চিকন, বিকলাঙ্গ, অন্ধ, কানা, খোঁড়া ইত্যাদি রকমের। আর মার্তৃ মৃত্যু, শিশু মৃত্যুহার ছিল নিয়মিত। তাই প্রয়োজন হলো উন্নত খাদ্যের। এখন উন্নত খাদ্য কি? উন্নত খাদ্য নিশ্চয় ভাত/রুটি নয়। উন্নত খাদ্য হলো আমিষ। আমিষ ছাড়া কোন প্রাণির সৃষ্টি সম্ভব নয় বেঁচে থাকা তো দূরের কথা। এই আমিষের প্রধান উৎস হলো প্রাণি। হ্যা উদ্ভিদ উৎসও আছে কিন্তু সারা পৃথিবী জুড়েই আমিষের প্রধান উৎস হলো প্রাণি ও মৎস্য। মৎস্যও এক ধরনের প্রাণি। পাখীও একধরনের প্রাণি এবং মুরগিও প্রাণি। সুতরাং প্রাণিজ আমিষের প্রয়োজন মিটাতে শুরু হলো মাছ চাষ, গরু ছাগল পালন, মুরগি পালন। আজকে আমরা দুধ বাদ দিলে সব কিছুতেই উৎপাদনে লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে বলে আমি মনে করি। দুধেও আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবো আশা করি। এর পেছনের সবচেয়ে যাদের বেশি অবদান তারা হলেন ভেটেরিনারিয়ান। আজকে আমাদের শিশু ও মায়েদের দিকে তাকালেই আমরা বুঝতে পারি বাঙালী জাতি আজকে উন্নত দেশে প্রবেশের অপেক্ষায়।

আমাদের ভাতের প্রয়োজন ছিল, ভাতের ব্যবস্থা হয়েছে। আমাদের আমিষের প্রয়োজন ছিল, আমিষের ব্যবস্থা হয়েছে। এখন আমাদের সময় এসেছে নিরাপদ খাদ্য তৈরীর। কেন এই নিরাপদ খাদ্য? তাহলে কি আমরা এতো দিন নিরাপদ খাদ্য তৈরী করিনি? করেছি কিন্তু উন্নত বিশ্বের মতো নয়। আজকে আমাদের নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে উন্নত দেশের মতো বিদেশে প্রাণিজ আমিষ রপ্তানি করতে চাই।

এখানে বলে রাখা ভাল যে, একটা দেশ যখন গরিব থাকে, তখন সরকার তার আইন কানুন যথাযথ প্রয়োগ না করে একটু শিথিল করে দেয় যাতে করে সবাই কাজে লেগে যায় এই সেক্টরের উন্নয়নে। এই সু্যোগ নিয়েই আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশে পা বাড়িয়েছি। তার মানে এই না যে সরকার উদাসিন। তার মানে এই না ভেটেরিনারিয়ানরা উদাসিন।

এখন নিরাপদ খাদ্যের কথায় আসি। নিরাপদ খাদ্য বলতে মানুষের জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয় যে খাদ্য তা নিরাপদ রাখা। আর এটাই এই সময়ে সারা বিশ্বব্যাপী গন মানুষের দাবি। কেন এখন এই নিরাপদ খাদ্য দরকার?

মানুষ সহ সকল প্রাণির দেহে যতো প্রকার রোগ বালাই আছে তার প্রায় ৮০% দেহে প্রবেশ করে খাদ্যের মাধ্যমে। কাজেই এই খাদ্য যদি নিরাপদ না থাকে তাহলে সারা দুনিয়ার চিকিৎসক একত্রিত করে চিকিৎসা দিলেও কোন কাজ হবে না। সাময়িক সুস্থ্য হয়ে আবার অসুস্থ্য হয়ে পড়তে হবে।
এই খাদ্য নিরাপদ বলতে এখন আর ভাত নিরাপদ বুঝায় না। কারন মানুষ এখন ভাত খুব কমই খায়। মানুষ এখন খাদ্য তালিকায় দুধ,ডিম, মাছ, মাংস ও সব্জীকেই প্রাধান্য দেয়। আর শিশুদের তো দুধ,ডিম,মাংস ছাড়া একদিনও চলে না। রুগীর খাদ্য তালিকায় এই গুলিই ঘুরে ফিরে থাকে। তাহলে আমাদের কোন জায়গাটাতে সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া উচিত? নিরাপদ প্রাণিসম্পদ গড়ে তোলার প্রতিই নজর দেয়া উচিত।

এখন এই নিরাপদ প্রাণিসম্পদ গড়ে কে তুলবে? ব্যবসায়ীরা নাকি সরকার? আপনাদের কার কি উত্তর আমার জানা নাই, তবে আমার মতে এটা সরকারের উপরেই বেশি দায়িত্ব। ব্যবসায়ীরা তাদের মুনাফার দিকটা প্রাধান্য দিয়েই কিন্তু তাদের পলিসি ঠিক করবে, এটা তাদের দোষ না, গুণ বলাই যুক্তি যুক্ত। সরকার এখানে দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে কোনটা ভাল সেটাই ঠিক করে দেবে। এই ব্যপারে সরকার বিভিন্ন সংস্থা, বৈজ্ঞানিক, ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময় করে সঠিক কার্য্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

আমি এতক্ষন ধরে যা বলেছি তা বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষেরই কম বেশি জানা। যে বিষয়টা সাধারন মানুষ এবং সরকারের নীতি নির্ধারকরা খুব কমই জানেন কিংবা বুঝতে চান না কিংবা এড়িয়ে চলেন তা হলো প্রাণি স্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাব। আমরা যদি স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অন্যান্য অধিদপ্তরের দিকে তাকাই তাদের জনবল ৪/৫ গুণ বেড়েছে আর যে মন্ত্রনালয় ছাড়া দেশের ১৭ কোটি মানুষের জীবন মান, মেধা, স্বাস্থ্যের উন্নয়ন সম্ভব হয়নি সেই মন্ত্রনালয়ের অধিদপ্তরগুলোতে জনবল তো বাড়েইনি বরং কমেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কথা যদি বলি প্রতিটা ইউনিয়নে একজন করে এমবিবিএস দিয়েছেন যদিও তারা সেখানে থাকেন না। প্রতিটি উপজেলায় হাসপাতাল, ক্লিনিক সহ এমবিবিএস এ ভরপুর। আমি এমবিবিএসদের কখনও ছোট করে কথা বলছি না, এটা দরকার আছে। এর চেয়েও বেশী দরকার প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ভেটিরিনারিয়ান। আমাদের দূ্র্ভাগ্য একজন করে ভেটেরিনারিয়ান নিয়ে একটা উপজেলা চলছে। আজকে আমরা যদি মানব সম্পদ নিরাপদ রাখতে চাই, আমরা যদি আমাদের প্রানিজ আমিষের উৎস প্রাণিসমূহ নিরাপদ রাখতে চাই, আমরা যদি আমাদের উৎপাদিত আমিষ বিদেশে রপ্তানি করতে চাই, আমরা যদি মানব স্বাস্থ্যের পেছনে খরচকৃ্ত হাজার হাজার কোটি টাকা রক্ষা করতে চাই, আমরা যদি বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে চাই তাহলে প্রাণিসম্পদের দক্ষ জনবল বাড়ানোর কোন বিকল্প নাই,বিকল্প না,বিকল্প নাই।

আর একজন ভেটেরিনারি সার্জন দিয়ে একটি উপজেলার লক্ষ লক্ষ প্রাণির স্বাস্থ্য দেখভাল করা সম্ভব নয়। আর প্রাণি মানে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, পাখী, ভেড়া, মহিষ, বন্য প্রাণি এরা কখনও ভেটেরিনারিয়ানের কাছে এসে স্বাস্থ্য সেবা নেয় না, ভেটেরিনারিয়ানদেরকেই প্রাণির কাছে যেতে হয়, তাহলে অনুমান করুন একজন ভেটেরিনারিয়ান যদি উপজেলার এক প্রান্তে একটা উন্নত গাভীর বাচ্চা প্রসবের জন্য চলে যায়, তখন উপজেলার অন্য এলাকার প্রাণির সমস্যা কে দেখবে। ডাক্তার আসার আগেই প্রাণিটি পটল তুলতে বাধ্য। এই ভাবে আমাদের প্রাণিসম্পদ ২ দিক দিয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

আমরা যারা প্রতিদিন দুধ, ডিম, মাংস খাই তারা কি কখনও একবার ভেবে দেখেছি এটা যারা উৎপাদন করেন, যারা এর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরলস দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন, তারা কি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন? ভাবিতো নাইই, উলটো ভাবি গরু, ছাগল, মুরগি পালতে আবার ডাক্তার লাগে নাকি? মজার বিষয় আমাদের বন্ধুবর মানুষের ডাক্তার যারা আছেন তারাও বলে থাকেন এসব পালতে আবার ডাক্তার লাগে? আমরা যখন বিভিন্ন উন্নত দেশের কথা বলতাম তখন তারা হেসে উড়িয়ে দিতো।

আজকে শুনি, তারা বলতে শুরু করেছেন, মানুষের রোগ বালাই আসছে প্রাণিসম্পদ থেকে, কাজেই এখন তাদের ডাক্তারীতে আর ফল আসছেনা। এখন দোষ প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের। আজকে কেন এসব বলছেন? এর আগেতো আমাদের মানুষই ভাবতেন না? মনে রাখবেন এইভাবে চলতে থাকলে মানুষ আর আপনাদের কাছে যাবে না। কারন মানুষ এখন অধিক সচেতন, তারা যাতে রোগে আক্রান্ত না হন সেই পরামর্শ চান। তারা আর ঔষধ খেয়ে বেঁচে থাকতে চান না। তারা এখন নিরাপদ খাদ্য চান। কাজেই আমাদের সকলের উচিত সবার আগে আমার খাদ্য নিরাপত্তা। আর আমরা যদি নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য নিশ্চিৎ করতে পারি তাহলে মানব স্বাস্থ্য এমনিতেই ঠিক থাকবে। পৃথিবীর সকল উন্নত দেশ বলতে তাদের প্রাণিসম্পদ উন্নত। উন্নত দেশে তাই ভেটরাই সর্বাগ্রে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, সচিব মহোদয় ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়দের অনুরোধ করছি, অবশ্যই অবশ্যই আপনাদের এই বিষয়টা প্রধান মন্ত্রীর নজরে আনতে হবে এবং তাকে ভালভাবে পরিস্কার করে বলতে হবে। তা নাহলে প্রধান মন্ত্রীই একদিন আপনাদের এইজন্য দায়ী করবেন।

আমাদের প্রাণিজ আমিষ নিরাপদ রাখতে আমার নিজস্ব কিছু মতামত তুলে ধরছি- আশা করছি বিজ্ঞজনেরা এই বিষয়টি বিশেষভাবে নজর দেবেন-
১। প্রাণিসম্পদের দক্ষ জনবল বাড়াতে প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো কোন প্রকার কাটছাট ছাড়াই বাস্তবায়ন করতে হবে।
২। আগামী ৫ বছরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।
৩। উপজেলা পর্যায়ে প্রাণি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা এখনি করতে হবে।
৪। ভেটেরিনারিয়ানদের কাজকে গতিশীল করতে পাশাপাশি প্যারাভেট নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫। শুধুমাত্র রেজিঃ ভেটেরিনারিয়ানের ব্যবস্থাপত্র অনু্যায়ী সকল প্রাণির চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬। প্রতিটি উপজেলায় প্রাণি খাদ্যের ও ঔষুধের মান নির্নয়ে সরকারী ল্যাব থাকতে হবে।
৭। ইমারজিং ডিজিজ মোকাবেলায় আমদানী নির্ভরতা কমিয়ে লোকাল আইসোলেট থেকে ভ্যাকসিন উৎপাদনে বেসরকারী পর্যায়ে আধুনিক মানের ল্যাব স্থাপনে সরকারের সহায়তা করতে হবে। তা নাহলে আমদানী করা ভ্যাকসিন দিয়ে শুধু অর্থের অপচয় আর খামার ধ্বংস ছাড়া আর কোন লাভ হবে না এবং রোগ নিয়ন্ত্রনে ও নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে বাধা গ্রস্ত হবে।
৮। প্রতিটি শহর, উপশহরে যেখানে প্রাণি জবাই করা হয় সেখানে অবশ্যই একজন ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগ দিতে হবে।
৯। ঔষধ প্রশাসনে হিউম্যান হেলথ্ এর মতো ভেটেরিনারি ড্রাগ নিয়ন্ত্রন ও মনিটর এর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। আমার জানামতে ঔষধ প্রশাসনে ভেটেরিনারি ড্রাগের জন্য একটা সেল আছে কিন্তু আমাদের অধিদপ্তর এখনও সেখানে কোন ভেট নিয়োগ দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
১০। বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারীভাবে আধুনিক মানের ল্যাব থাকতে হবে যেখান থেকে সরকারী, বেসরকারী খামার মালিক ও ভেটেরিনারিয়ানরা সঠিক রোগ নির্নয়ে সেবা নিতে পারে।
১১। প্রতিটা বন্দরে অবশ্যই সরকারীভাবে ল্যাব এবং এখানে ২/৩ জন করে ভেট থাকতে হবে যাতে করে আমদানিকৃত ভেটেরিনারি ঔষুধ ও খাদ্য উপকরন পরীক্ষা করে দ্রুত পন্য ছাড় করা যায়।
১২। দেশে বিদ্যমান ডিভিএম ও পশুপালন ডিগ্রী অবলুপ্ত করে সকল সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে একই রকম কোর্স কারিকুলাম ও ডিগ্রী চালুকরন করতে হবে। যেন মাঠ পর্যায়ে কোন সমস্যা না হয়।
১৩। ভেটেরিনারি কাউন্সিলের বিদ্যমান যে জনবল রয়েছে তা আরও বাড়িয়ে বিভিসির সকল নীতিমালা প্রয়োগ করতে হবে। ৫ বছর পর পর ভেটেরিনারিয়ানদের ক্যাটাগরি করতে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা দরকার।
১৪। প্রাণিজ আমিষ নিরাপদ রাখতে প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা যেমন আহকাব, বিভিএ, ফিয়াব, বিএবি, বিপিআইএ, টিভিই সহ সকল সংস্থাকে সমন্বয় করে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে এন্টারপ্রেনারদের অংশগ্রহনের সু্যোগ রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ন একটা বোর্ড বা কমিটি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের নেতৃ্ত্বে গঠন করা যারা এই সেক্টরের উৎপাদিত পন্য চাহিদার ভিত্তিতে উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
১৫। প্রাণিসম্পদের উৎপাদিত পণ্য মৎস্য সহ যাতে বিদেশে নিরাপদে রপ্তানি করা যায় সেই ধরনের সু্যোগ সুবিধা ও বাজার তৈরীতে সরকারী সকল সহযোগীতার বিধান রাখতে হবে।
১৬। বেসরকারী সংস্থাগুলোকে প্রাণিসম্পদের উৎপাদিত পন্য ভোক্তা পর্যায়ে সরাসরি বিক্রয়ের ও তাদের কে বেশি বেশি প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সকল প্রকার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে কাজে লাগাতে হবে।

বিজ্ঞজনদের আরও মূল্যবান মতামত থাকতে পারে সেগুলিও এর সাথে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন করা গেলে আমরা অবশ্যই উন্নত বিশ্বের মতো মাথা উচু করে বলতে পারবো, আমরাও পারি। সকল ভেটেরিনারিয়ান এবং সেক্টরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার শুভ কামনা রইল।
সুন্দর সোনার বাংলাদেশের প্রত্যাশায়।

ডাঃ মোহাম্মদ সরোয়ার জাহান
কার্যকরি সদস্য- আহকাব
ব্যবস্থাপনা পরিচালক- সেইফ বায়ো প্রোডাক্টস্ লিঃ
+৮৮০১৭১১০৫৪৭২৮
+৮৮০১৯০৪৪৮৮৬০০