সিকৃবিতে ডিভিএম শিক্ষার্থীদের মধ্যে সার্জিক্যাল কিটবক্স বিতরণ

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এনিম্যাল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সার্জিকাল কিটবক্স বিতরণ করা হয়েছে।

রবিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এনিম্যাল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদীয় সম্মেলন কক্ষে এই কিটবক্স বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মতিয়ার রহমান হাওলাদার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কিটবক্স বিতরণ করেন।

সার্জারি ও থেরিওজেনোলজি বিভাগের উদ্যোগে কিটবক্স বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নাসরিন সুলতানা লাকী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এম. রাশেদ হাসনাত। বিভাগীয় শিক্ষকবৃন্দসহ পিএমসি ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। ভাইস চ্যান্সেলর ড. মতিয়ার বলেন, করোনা মহামারীর সময় সারা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা থমকে থাকলেও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২জন শিক্ষার্থী ৩২টি উপজেলায় গ্রামে গ্রামে ঘুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাণী চিকিৎসা সেবা দিয়ে এসেছে।

এছাড়া সিকৃবির শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অনলাইনেও একাডেমিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য প্রাণি চিকিৎসক হবার দ্বারপ্রান্তে থাকা শিক্ষার্থীদের আজ সার্জিকাল কিটবক্স বিতরণ করা হলো।

ব্যবহারিক পাঠদান ও গবেষণার জন্য রয়েল বেঙ্গল টাইগার পেল খুকৃবি

সুন্দরবনের পাহারাদার ও বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণি রয়েল বেঙ্গল টাইগার দিয়েই গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ২০ জানুয়ারি খুলনার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্টস্থ বনবিলাস চিড়িয়াখানায় বার্ধক্য জনিত কারণে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার মারা যায়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ মৃত বাঘটিকে মাটি চাপা না দিয়ে ভেটেরিনারি শিক্ষায় সহায়তার ইচ্ছা পোষণ করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এমন ইচ্ছার খবরটি খুলনা প্রাণিসম্পদ অফিসের মাধ্যমে জানতে পারে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি) কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জেনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ভাবে খুকৃবি’র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: শহীদুর রহমান খানকে জানানো হয় ।

এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত বাঘটি পরিদর্শন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের তৎক্ষনাৎ নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এনিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি মেডিকেল টিম চিড়িয়াখানায় মৃত বাঘটিকে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকৃত খুকৃবি’র মেডিকেল টিমে উপস্থিত ছিলেন খুকৃবি’র এনিম্যাল নিউট্রিশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো: তসলিম হোসেন, ফিজিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এম এ হান্নান এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রভাষকবৃন্দের মধ্যে ডাঃ পাপিয়া খাতুন, ডাঃ জান্নাত হোসেন, ডাঃ স্বরূপ কুমার কুন্ডু, ডাঃ শাহাবুদ্দীন আহমেদ, ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ্, ডাঃ শারমিন জামান, নাজমুল হক অপু সহ ছাত্র-ছাএীবৃন্দ।

পরিদর্শন শেষে জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে বাঘটিকে খুকৃবির ভেটেরিনারি, এনিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে বাঘটি দৌলতপুরে অবস্থিত খুকৃবির অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আনা হয় এবং বাঘটির চামড়া, কংকাল, ও অভ্যন্তরীন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সমূহকে সংরক্ষণ করা হয়। যা ভবিষ্যতে ভেটেরিনারি, এনিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের ব্যবহারিক পাঠদানে ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এনিম্যাল অ্যান্ড বায়োমেডিকেল সায়েন্সেস অনুষদের শিক্ষার্থী মাহিরুল হল শিলং ও পিয়াল রায় বলেন, দেশের নবীনতম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণার কাজে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া সত্যিই আনন্দদায়ক ও গর্বের। এই ধরণের অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুর রহমান খানকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এম এ হান্নান বলেন, ভেটেরিনারি শিক্ষা ও গবেষণায় খুকৃবিতে নতুন একটি দ্বার উন্মোচনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: শহীদুর রহমান খান স্যার এর প্রতি শিক্ষকরা চিরকৃতজ্ঞ। এই ধরনের বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে খুকৃবি উচ্চতর কৃষি শিক্ষার সকল স্তরে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে শিক্ষা ও গবেষণায় এই ধরনের নতুন নতুন ইতিহাসের স্বাক্ষী হবে খুকৃবি বলেও বিশ্বাস করেন তিনি। এছাড়া খুকৃবির এনাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগের প্রস্তাবিত “এনাটমি মিউজিয়াম” বাস্তবায়িত হলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পুরো দেহের কঙ্কালটিকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মোচন করা হবে। অধিকন্তু, মৃত বাঘটি হস্তান্তরের জন্য বন বিলাস চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: শহীদুর রহমান খান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন নতুন ইতিহাসের স্বাক্ষী হবে। মৃত বাঘটির কংকাল ও অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রতঙ্গ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে কৃষি শিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।